চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ আকাশচুম্বী ভবন সিটিক টাওয়ারে ছোট একটি বিমান আছড়ে পড়ার ঘটনায় নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) তারা জানিয়েছে, বিমানটি চালাচ্ছিলেন ৬৬ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা লিউ। তিনি অতীতে আত্মহত্যার ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেছিলেন।
সিএনএন জানিয়েছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই আসনের একটি সানওয়ার্ড SA 60L অরোরা বিমান বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর বিমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাগুলোর একটি এড়িয়ে ১০৯ তলা ও ৫২৮ মিটার উঁচু সিটিক টাওয়ারে আঘাত হানে। এতে পাইলট নিহত হন এবং আরও ১৩ জন আহত হন। তবে আহতদের কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। একজন ইতিমধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
চাওইয়াং জেলা সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, লিউ শুক্রবার বিকেলে উত্তর-পূর্ব বেইজিংয়ের একটি সাধারণ বিমানবন্দর থেকে প্রথমে একজন সঙ্গীকে নিয়ে উড্ডয়ন করেন। পরে একাই বিমান চালিয়ে নির্ধারিত ফ্লাইটপথ থেকে সরে যান এবং বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর রাজধানীর কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক এলাকায় অবস্থিত সিটিক টাওয়ারে আঘাত করেন।
২০২১ সালে পাইলটের লাইসেন্স পাওয়া লিউ ছিলেন স্বনিযুক্ত, তালাকপ্রাপ্ত এবং নিঃসঙ্গ মানুষ। তদন্তে তাঁর ব্যক্তিগত ডায়েরিতে একাধিকবার জীবন শেষ করার ইচ্ছার উল্লেখ পাওয়া গেছে। কর্মকর্তারা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রা ও উদ্বেগজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। তদন্তকারীদের মতে, ব্যক্তিগত কারণেই তিনি এমন কাজ করেছেন, যা জননিরাপত্তাকে গুরুতরভাবে বিপন্ন করেছে।
ঘটনার সময় ভবন থেকে কাচের টুকরো ও বিমানের ধ্বংসাবশেষ নিচের সড়কে ছিটকে পড়ে। এর ফলে সাপ্তাহিক ছুটির আগে অফিস ত্যাগ করা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বেইজিংয়ের আকাশ প্রতিরক্ষা ও বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
তবে ঘটনার পরপরই চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে এ-সংক্রান্ত ভিডিও ও সব ধরনের উল্লেখ দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও প্রথমদিকে এই বিষয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশ করেনি। পরে প্রায় এক দিন পর আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ঘটনার কথা স্বীকার করে চীনা কর্তৃপক্ষ।