অজ্ঞাত এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২১ কেজি স্বর্ণের বার উপহার পেয়েছে জাপানের একটি শহর। পুরোনো পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য সম্পদ দান করা ওই ব্যক্তি নিজের পরিচয় গোপন রেখেছেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, পুরোনো পানি সরবরাহ ব্যবস্থা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এক ব্যতিক্রমী অনুদান পেয়েছে জাপানের তৃতীয় বৃহত্তম শহর ওসাকা। শহরটির মিউনিসিপ্যাল ওয়াটারওয়ার্কস ব্যুরো গত নভেম্বরে পরিচয় গোপন রাখা এক ব্যক্তির কাছ থেকে মোট ২১ কেজি ওজনের স্বর্ণের বার গ্রহণ করে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই পরিমাণ সোনার দাম প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। বিষয়টি গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে সিটি সরকার।
শহরের মেয়র হিদেউকি ইয়োকোয়ামা সাংবাদিকদের জানান, ২১ কেজি সোনা দানের এক মাস আগে একই দাতা পানি বিভাগকে নগদ ২ হাজার ৪৫১ পাউন্ডও দিয়েছিলেন। তবে তিনি নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি। দাতার ভাষ্য, দেশের ভাঙাচোরা পানির পাইপ নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রতিবেদন দেখে তিনি সহায়তার সিদ্ধান্ত নেন।
প্রায় ৩০ লাখ মানুষের বাস ওসাকা শহরে। জাপানের অন্যান্য শহরের মতো এখানেও পুরোনো পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ অর্থবছরে শহরটির সড়কের নিচে প্রায় ৯০টি পানির পাইপ ছিদ্রের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। পুরোনো পাইপ বদলের ব্যয় পূর্বানুমানের চেয়ে বেড়ে যাওয়ায় কাজটি থমকে ছিল বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
গত সেপ্টেম্বরে দ্য জাপান টাইমস জানায়, জাপান জুড়ে ৪০ বছরের নির্ধারিত আয়ু পেরিয়ে গেছে ২০ শতাংশের বেশি পানির পাইপ। দেশটির প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার কিলোমিটার পানির লাইনের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৭৬ হাজার কিলোমিটার ইতিমধ্যে নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করেছে। ২০৪২ অর্থবছরের মধ্যে ৪০ বছরের বেশি পুরোনো পাইপের হার প্রায় ৭০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
মেয়র ইয়োকোইয়ামা বলেন, ‘পুরোনো পানির পাইপ বদলাতে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন। এত বড় অঙ্কের সহায়তায় আমরা কৃতজ্ঞ ও বিস্মিত।’ স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, দান করা স্বর্ণ বিক্রি করলে প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সাধারণ পানির পাইপ প্রতিস্থাপনের ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে।