গত ফেব্রুয়ারির সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থা ক্রমশ খারাপ হয়েছে। এ অবস্থায় দেশটির সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক মহলের প্রচেষ্টাকে সহযোগিতা করতে আসিয়ানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
সংস্থাটির মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত নোলিন হাইজার আসিয়ানের নতুন চেয়ার কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে গতকাল ভিডিও আলাপ করেছেন। হাইজার সেনকে বলেন, ‘মিয়ানমারে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। দেশটির সংকট সমাধানে আসিয়ানের দেওয়া পাঁচ দফা বাস্তবায়নের জন্যও এটা দরকার।’
১০ সদস্যের আসিয়ানের সদ্য সাবেক চেয়ার ব্রুনাইয়ের নেতৃত্বে গত বছর মিয়ানমার-সংকট সমাধানে ওই পাঁচ দফা দেওয়া হয়। দফার অংশ হিসেবে দেশটির মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত দেশটি সফর করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে চাওয়ায় তাঁর আগমন অনুমোদন করেনি জান্তা সরকার। প্রতিক্রিয়ায় গত বছরের শীর্ষ সম্মেলনে মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইংকে আমন্ত্রণ না জানানোর সিদ্ধান্ত নেয় আসিয়ান।
এর মধ্যেই গত ৭ জানুয়ারি দুই দিনের সফরে মিয়ানমারে আসেন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন। জান্তার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশটিতে কোনো সরকারপ্রধানের এটাই প্রথম সফর।
সেনের সফর জান্তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথ সুগম করবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। হুন সেনের সফরে বিক্ষোভ করেছেন জান্তাবিরোধীরাও।
কম্বোডিয়ার মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত প্রাক সোখোন আসিয়ানের আগের কৌশল ফলপ্রসূ নয় বলে সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন। কিন্তু সংকট সমাধানে সব পক্ষকে আলোচনার উদ্যোগ নিতে সোখোনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন হাইজার।