মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়। আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে বিরোধীদের ওপর আবারও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর হামলার শঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমারের বেশ কিছু অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যেকোনো সময় এই অঞ্চলগুলোর বিরোধীদের ওপর মিয়ানমার সামরিক বাহিনী দমন-পীড়ন চালাতে পারে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেছেন, গত মাসেও মিয়ানমার সামরিক জান্তা শিন প্রদেশ ও অন্যান্য অঞ্চলে বিরোধীদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং তাদের লক্ষ্য করে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। ওই অঞ্চলে নতুন করে দুজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কমান্ডারকে পদায়ন করা হয়েছে।
জেনেভায় জাতিসংঘের ব্রিফিংয়ে রাভিনা শামদাসানি বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী পুনরায় শিন, সাগাইং ও ম্যাগওয়েতে সামরিক সজ্জা উল্লেখজনকভাবে বাড়িয়েছে। এটি নতুন করে বিরোধীদের ওপর হামলার শঙ্কা তীব্রতর করেছে।
মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণের ওপর হামলার শঙ্কা প্রকাশ করে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার প্রধান মিশেল বাশলেট বলেন, সামরিক জান্তার বর্তমান প্রস্তুতিই বলে দিচ্ছে, সে দেশের সাধারণ মানুষ যেকোনো সময় হত্যাযজ্ঞের শিকার হতে পারে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে রয়টার্স যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পায়নি।
গত ১ ফেব্রুয়ারি দেশটির সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বে মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান হয়। ফলে অং সান সু চিকে হটিয়ে সেখানে এক দশকের অস্থায়ী গণতন্ত্রের অবসান হয়। এর পর থেকেই মিয়ানমারে অশান্তি বিরাজ করছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
মিয়ানমারের স্থানীয় সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে শামদাসানী জানান, ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে মোট ১ হাজার ১২০ জন গণতন্ত্রপন্থী বিদ্রোহীকে হত্যা করা হয়েছে। তাই জান্তার এই মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে প্রভাবশালী দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তবে এসব অভিযোগকে অমূলক ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। তারা বলছে, বিরোধীদের আক্রমণে উল্টো তাদের বেশ কিছু সেনা নিহত হয়েছে।