হোম > বিশ্ব > এশিয়া

হোটেল কিনে ছেলেবেলার অপমানের প্রতিশোধ নিলেন ধনকুবের

চীনের ম্যাকাও শহরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে হোটেল সেন্ট্রাল। ছবি: সিএনএন

সিমন সিয়াও বেড়ে উঠেছেন চীনের ম্যাকাও শহরের মাঝামাঝিতে অবস্থিত একটি এলাকায়। শহরের সবচেয়ে অভিজাত হোটেল সেন্ট্রালের কাছেই একটি পুরোনো বাড়িতে তিনি বেড়ে উঠেছেন। ১৯২৮ সালে উদ্বোধন করা এই হোটেলটি পরবর্তীতে তারকা, সেলিব্রেটি এবং কূটনীতিকদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ সম্মিলনের স্থান হয়ে ওঠে।

১৯৬০-এর দশকে ছোট্ট সিমন সিয়াও একদিন খেলাচ্ছলে ঢুকে পড়েছিলেন হোটেল সেন্ট্রালের ভেতর। কিন্তু হোটেলের লোকেরা তাঁকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাইরে বের করে দেয়।

শৈশবের সেই স্মৃতি মনে করে সম্প্রতি সিএনএনকে সিয়াও বলেন, ‘ছোটবেলায় খুব বেশি বুঝতাম না। আমি শুধু ওই হোটেলটির দিকে তাকিয়ে শপথ করেছিলাম, একদিন এটা আমি কিনে ফেলব।’

ছোটবেলায় এমন শপথ কতজনই তো করে, বাস্তবে তা পূরণ করতে পারে কজন? সিমন সিয়াও তাঁদেরই একজন, যিনি তাঁর শৈশবের শপথ বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।

সেদিনের সেই ছোট্ট সিয়াও এখন ৬৫ বছরের পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী। ১৯৯১ সালে তিনি তাঁর নিজস্ব রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লেক হ্যাং গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। সম্প্রতি তিনি নতুন মালিক হিসেবে ৯৬ বছরের পুরোনো ও নামকরা হোটেল সেন্ট্রালের ফিতা কেটেছেন।

সিয়াও জানিয়েছেন, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্যই যে তিনি হোটেল সেন্ট্রাল কিনে নিয়েছেন, তা নয়। ম্যাকাও-এর সমৃদ্ধ ইতিহাস সংরক্ষণের আকাঙ্ক্ষাও যোগ হয়েছিল এর সঙ্গে। আধুনিক উন্নয়নের দ্বারা শহরের অনেক ঐতিহ্যই আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।

শৈশবে সিমন সিও। ছবি: সিএনএন

হোটেলটি একসময় শহরের সবচেয়ে উঁচু এবং জাঁকজমকের প্রতীক ছিল। যদিও পরে এটি নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। এমনই একটি সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ২০১৬ সালে হোটেলটি শেষ পর্যন্ত কিনে নেন সিয়াও। পরে এই হোটেলের সংস্কার কাজ শুরু করেন ২০১৯ সালে। সংস্কার বলতে, আধুনিক ভবনে রূপ দেওয়া—এমন নয়। তিনি এই ভবনটিকে পুরোনো রূপেই রেখেছেন, শুধু কাঠামোটিকে আরও শক্তিশালী করেছেন। কাজটি সহজ ছিল না। তারপরও নতুন নির্মাণ পদ্ধতি এবং উপকরণ দিয়ে হোটেলটির সংস্কারকাজ শেষ হয় ২০২২ সালে।

সংস্কারের পর ঐতিহ্যবাহী হোটেল সেন্ট্রাল আবারও যাত্রা শুরু করেছে। এই হোটেলে নস্টালজিক ডিজাইন সহ ১১৪টি বিলাসবহুল কক্ষ রয়েছে। আছে একটি একটি শপিং মল এবং কিছু রেস্তোরাঁ। ম্যাকাও-এর পর্যটনকে বৈচিত্র্যময় করতে এই ধরনের ঐতিহাসিক প্রকল্পগুলোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সিয়াও। ডেভেলপারদেরকে তিনি শুধু ক্যাসিনো রিসোর্ট না তৈরি করে শহরের ঐতিহ্য সংরক্ষণে মনোযোগ দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। এভাবে ম্যাকাও একদিন নিজের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ভান্ডার প্রদর্শন করে একটি অনন্য ও বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়ায় ইতিহাস গড়ল নেপাল: দলিতদের কাছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমা প্রার্থনার ঘোষণা বালেন্দ্র শাহর

মিয়ানমারের ‘বেসামরিক প্রেসিডেন্ট’ হলেন সেনাপ্রধান

এভারেস্টে মৃত্যুফাঁদ: পর্যটকদের বিষ খাইয়ে ১৫০ কোটি টাকার বিমা জালিয়াতি, নেপথ্যে গাইড-হাসপাতাল

নতুন আইনে জাপানে বিচ্ছেদের পর সন্তানকে কাছে পাবেন দুজনই

সফরের মাঝপথে মিজানুর রহমান আজহারীর ভিসা বাতিল করল অস্ট্রেলিয়া

ইরান যুদ্ধ থামাতে চীন ও পাকিস্তানের পাঁচ দফা পরিকল্পনা ঘোষণা

কে এই ‘ক্রিপ্টো ব্রো’—যাঁর হাত ধরে ট্রাম্পের মন জয় করল পাকিস্তান

জ্বালানির দাম বাড়ায় গণপরিবহন ফ্রি করে দিল অস্ট্রেলিয়ার দুই রাজ্য

নেপালে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ, পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত থাকছে না পরীক্ষা

উত্তর কোরিয়ার নতুন রকেট ইঞ্জিনের সফল পরীক্ষা, ব্যবহৃত হবে আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রে