জাপানে পারিবারিক ভ্রমণে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের ২০ বছর বয়সী তরুণ জেমস ওয়েস্টন হিগিনবোথাম। গত ২৯ মে জাপানের কিয়োটো শহরে পরিবারের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার পর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি ঘিরে জাপানের পাহাড়ি ও বনাঞ্চলে পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক এমনকি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই অনুসন্ধানে সহায়তা করছে।
ওয়েস্টনের মা ন্যান্সি হিগিনবোথাম জানান, তাঁর পরিবার ২২ মে জাপান সফরে যায়। এটি ছিল ওয়েস্টনের ছোট ভাইয়ের হাইস্কুল পাস করার উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত পারিবারিক ভ্রমণ। টোকিওসহ কয়েকটি শহর ঘুরে তারা কিয়োটোতে পৌঁছান।
ন্যান্সির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকৃতিপ্রেমী ওয়েস্টন একা ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করতেন। ভ্রমণের সময় তিনি পরিবারের কাছ থেকে কিছুটা দূরে সময় কাটাতে চেয়েছিলেন। সেদিন পরিবারের অন্য সদস্যরা একটি মন্দিরে গেলে ওয়েস্টন একাই কিয়োটো শহর ঘুরতে বের হন।
ওয়েস্টন যুক্তরাষ্ট্রের অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ প্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর মা তাঁকে ‘প্রকৃতির প্রেমিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি নিরামিষভোজী এবং তাঁর দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়, বন ও দুর্গম অঞ্চলে অভিযানের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ইউরোপের পিরেনিজ পর্বতমালায় তিনি একাই ট্রেকিং করেছেন। পরিবারটির সদস্যরাও নিয়মিত মাউন্টেন বাইকিং, হাইকিং ও হোয়াইট ওয়াটার রাফটিংয়ে অংশ নেন।
নিখোঁজ হওয়ার আগে ওয়েস্টনের অবস্থান সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে ‘লাইফ ৩৬০’ নামের একটি লোকেশন শেয়ারিং অ্যাপ থেকে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মন্দিরে থাকার সময় তাঁরা দেখতে পান ওয়েস্টন একটি ট্রেনে উঠেছেন। পরে তিনি কয়েকটি দোকানে যান এবং আবার ট্রেনে চড়েন। এরপর হঠাৎ তাঁর মোবাইলের লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়।
ন্যান্সির মতে, এটি ছিল অত্যন্ত অস্বাভাবিক ঘটনা। ওয়েস্টন আগে কখনো নিজের অবস্থান-সংক্রান্ত তথ্য বন্ধ করেননি। রাত ২টা পর্যন্ত তাঁর কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারটি শেষ পর্যন্ত স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিখোঁজ ডায়েরি করে।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ওয়েস্টনের কাছে প্রায় ১০ হাজার জাপানি ইয়েন এবং ৩৪ শতাংশ চার্জ থাকা একটি মোবাইল ফোন ছিল। কিয়োটো স্টেশন থেকে তিনি সন্ধ্যা ৬টার দিকে বের হন। স্থানীয় পুলিশের তথ্য বলছে, রাত ৮টার দিকে ইয়ামাশিনা এলাকায় একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় তাঁকে শেষবারের মতো একা হাঁটতে দেখা গেছে। পথটি কাছাকাছি একটি বনাঞ্চল ও হাইকিং ট্রেইলের দিকে চলে গেছে।
ইয়ামাশিনা এলাকা কিয়োটো ও শিগা প্রিফেকচারের সীমান্তে এবং চারপাশে ঘন বন ও পাহাড়ে ঘেরা। এর মধ্যেই পূর্ব জাপানে একটি টাইফুন আঘাত হানায় ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। ফলে ওয়েস্টন যদি পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান করে থাকেন, তবে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেশি।
জাপানের পুলিশ জানিয়েছে, কয়েক ডজন কর্মকর্তা, প্রশিক্ষিত কুকুর এবং একটি হেলিকপ্টার নিয়ে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধমূলক ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই ঘটনাটিকে নিখোঁজ ব্যক্তির মামলা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ছেলের খোঁজে উদ্বিগ্ন ন্যান্সি হিগিনবোথাম বলেন, ‘প্রতিটি মুহূর্তে আমি শুধু ছেলের কথাই ভাবি। তার শৈশব, জন্মদিনের অনুষ্ঠান, একসঙ্গে করা ভ্রমণ—সব স্মৃতি ফিরে আসে। আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই।’
পরিবারটি জাপানে অবস্থান করছে এবং ওয়েস্টনকে না পাওয়া পর্যন্ত দেশে ফিরবে না বলে জানিয়েছে। এদিকে মার্কিন দূতাবাস, এফবিআই, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও যুক্তরাষ্ট্রে থাকা পরিবারের বন্ধু-স্বজনেরা বিভিন্নভাবে সহায়তা করছেন। ওয়েস্টনের কোনো ব্যাংক কার্ড ব্যবহার হয়নি বলেও জানা গেছে।
ওয়েস্টনের বাবা কিথ হিগিনবোথাম অবশ্য আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, কোনো না কোনো জায়গায় সে আছে। তাকে আমরা খুঁজে পাবই।’
অন্যদিকে আলাবামার বার্মিংহামে ওয়েস্টনের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রার্থনা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি একটি গির্জায় তাঁর বন্ধু, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা প্রার্থনা সভায় অংশ নেন। পরিবারের সদস্যরা সবার সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।