প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি)-এর নেতা ওজগুর ওজেলকে অপসারণের রায় দিয়েছেন তুরস্কের একটি আদালত। বৃহস্পতিবার (২১ মে) দেওয়া এই রায়ে ২০২৩ সালের দলীয় কংগ্রেস বাতিল ঘোষণা করা হয়। ওই কংগ্রেসেই ওজেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।
আদালত রায়ে সাবেক চেয়ারম্যান কামাল কিলিচদারওগলুকে পুনরায় দলের নেতৃত্বে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন। এই সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট রিস্যেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এর প্রভাব দেশটির আর্থিক বাজারেও পড়েছে।
আদালতের মতে, ২০২৩ সালের কংগ্রেসে নানা ধরনের অনিয়ম হয়েছিল। তবে সিএইচপি নেতারা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। দলটির অভিযোগ, বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে বিরোধী রাজনীতিকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। সিএইচপি-এর উপদলীয় নেতা আলি মাহির বাসারির মন্তব্য করেছেন, এটি বিচার বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত এক ধরনের অভ্যুত্থান। তিনি বলেন—এই রায়ের মাধ্যমে জনগণের ভোটের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করা হয়েছে এবং এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই চলবে।
রায়ের পরপরই ওজগুর ওজেল দলীয় নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। একই সঙ্গে দলের সমর্থকদের আঙ্কারায় সিএইচপি কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করার আহ্বান জানানো হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় তুরস্কে গণতন্ত্র ও কর্তৃত্ববাদের মধ্যকার টানাপোড়েনকে আরও স্পষ্ট করেছে। সিএইচপি বর্তমানে জনমত জরিপে এরদোয়ানের একে পার্টির সঙ্গে প্রায় সমানে সমান অবস্থানে রয়েছে। তবে ২০২৪ সাল থেকে দলটির বিরুদ্ধে ব্যাপক বিচারিক অভিযান চলছে। দুর্নীতির অভিযোগে সিএইচপির শত শত নেতা-কর্মী ও জনপ্রতিনিধিকে আটক করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে তারা।
কারাগারে থাকা ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামওগলুকেও এরদোয়ানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হয়। তিনি ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সিএইচপি-এর প্রার্থী।
রয়টার্স জানিয়েছে, রায়ের প্রভাবে তুরস্কের প্রধান শেয়ারবাজার সূচক বোরসা ইস্তাম্বুল ৬ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যায় এবং বাজারে লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়। পাশাপাশি সরকারি বন্ডের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।