অস্ট্রেলিয়ায় অধ্যয়নরত নরওয়ের রাজকুমারী ইনগ্রিড আলেকজান্দ্রা এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন ৬৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি।
বুধবার (৩ জুন) সিডনির নিউটাউন আদালত ডেভিড জেমস কুক নামে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুই বছরের একটি ‘সহিংসতা রোধের আদেশ’ (Apprehended Violence Order) জারি করেন। আদেশ অনুযায়ী—তিনি সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন না,২২ বছর বয়সী রাজকুমারীর বিষয়ে অনলাইনে অনুসন্ধান চালাতে পারবেন না এবং তাঁর বা তাঁর পরিবারের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে পারবেন না।
এই ধরনের আদেশ সাধারণত কাউকে সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা হয়রানি থেকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশে জারি করা হয়।
আদালত থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের কুক জানান, রাজকুমারী ইনগ্রিডকে পাঠানো একটি শুভেচ্ছা কার্ডের জেরেই এই আদেশ জারি হয়েছে। নরওয়ের সিংহাসনের উত্তরাধিকার তালিকায় ইনগ্রিড বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন।
কুক বলেন, ‘আমি শুধু বন্ধুত্বের অনুরোধ জানিয়ে একটি কার্ড পাঠিয়েছিলাম, এর বেশি কিছু নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাকে কোনোভাবে বিব্রত করার ইচ্ছা আমার ছিল না। তিনি একজন ভালো মানুষ। একটি অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল, পরে কার্ডটি আমি পাঠাই।’
তবে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগের পর এক সংবাদচিত্র গ্রাহককে হামলার অভিযোগে কুককে অভিযুক্ত করেছে পুলিশ। পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই আলোকচিত্রী সামান্য আহত হয়েছেন।
পরে কুককে পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। হামলার অভিযোগে আগামী ১৭ জুলাই তাঁকে আবার আদালতে হাজির হতে হবে।
রাজকুমারী ইনগ্রিড আলেকজান্দ্রা গত বছর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে তিন বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন। বর্তমানে তিনি সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন।
সাম্প্রতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গুরুতর অসুস্থ মাকে দেখতে তিনি সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া থেকে নরওয়েতে ফিরে গেছেন। ইনগ্রিড নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্স হাকন এবং ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিতের কন্যা।