ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো যায়। এ সময় তিনি রসিকতার ছলে চেচেন নেতা রমজান কাদিরভের পরিণতি যেন বন্দী ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোর মতো হয়—এমন মন্তব্যও করেন।
ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যম কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্টের খবরে বলা হয়েছে, গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলেনস্কি বলেন, ‘ (আমেরিকানদের) অবশ্যই রাশিয়ার ওপর চাপ দিতে হবে। তাদের কাছে সেই উপকরণ আছে; তারা জানে কীভাবে তা করতে হয়। আর যখন তারা সত্যিই চায়, তখন তারা পথ বের করে নেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাদুরোর উদাহরণই ধরুন, ঠিক আছে? তারা একটি অভিযান চালিয়েছে...সবাই ফলাফল দেখছে—পুরো বিশ্ব। তারা খুব দ্রুতই তা করেছে। এই—ওর নাম কী—কাদিরভের সঙ্গেও তারা তেমন কোনো অভিযান চালাক। এই খুনির বিরুদ্ধে। তাহলে হয়তো (রুশ প্রেসিডেন্ট) পুতিন বিষয়টি দেখে দুইবার ভাববে।’ মন্তব্যটি তিনি রসিকতার সুরে করেন।
জেলেনস্কির এই মন্তব্য এল এমন এক সময়—যখন মাত্র কয়েক দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র মস্কোর মিত্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে বড় পরিসরের হামলা চালায়। ওই অভিযানের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল দেশটিতে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানো এবং ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। অভিযানের পর ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের বিরুদ্ধে নারকোটেরোরিজম ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
রমজান কাদিরভ নিজেকে ‘পুতিনের পদাতিক সৈনিক’ বলে উল্লেখ করে থাকেন। ২০০৭ সাল থেকে তিনি ক্রেমলিনপন্থী চেচেন প্রজাতন্ত্র শাসন করে আসছেন। তাঁর শাসনামলে চেচনিয়া বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, যেখানে জোরপূর্বক গুম, নির্যাতন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে। চেচনিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো কাদিরভ ও তাঁর পরিবারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে শান্তি আলোচনা চলমান থাকলেও রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ওয়াশিংটনের মিত্র মস্কোর সহযোগী ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান এবং ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি মানতে রাশিয়ার অস্বীকৃতি এই উত্তেজনাকে আরও তীব্র করেছে।
এর আগে একই দিনে জেলেনস্কি বলেন, ইউরোপীয় অংশীদার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলিয়ে শান্তি আলোচনা ‘একটি নতুন মাইলফলকে পৌঁছেছে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের মধ্যেই অবসান ঘটানো সম্ভব হতে পারে।