চীন বিশ্বের অল্প কয়েকটি বড় অর্থনীতির একটি, যার সঙ্গে ইরানের কার্যকর ও সক্রিয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। অনেকে তো এমনও বলেন, ইরানি তেল কিনে বেইজিং মূলত তেহরানের সরকারকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করছিল।
আল জাজিরার বেইজিং প্রতিনিধি ক্যাটরিনা য়ু নিজের বিশ্লেষণে বলেছেন, এই প্রেক্ষাপটে চীন একটি স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন বিবৃতি দিয়েছে। তারা বলেছে, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও তার ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করতে হবে। চলমান এই হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, যাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ না নেয়। একই সঙ্গে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।
আসলে চীনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখানেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে যদি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নেয়, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হবে। আর এই বাজারের ওপরই অনেকাংশে নির্ভরশীল বেইজিংয়ের অর্থনীতি।
চীনের উদ্বেগের পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণও রয়েছে। কয়েক বছর ধরে বেইজিং এমন একটি বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম থাকবে। এই কৌশলে তেহরানের সরকারকে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি হিসেবে দেখে।
এখন চীন আশঙ্কা করছে, ইরানে যদি শাসন পরিবর্তন ঘটে, তাহলে তা বৈশ্বিক জোটসমূহের কাঠামোকে ওয়াশিংটনের পক্ষে নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারে, যা বেইজিংয়ের জন্য কৌশলগতভাবে অস্বস্তিকর হয়ে উঠবে।
এর বাইরে ইরানে চীনের বিশাল বিনিয়োগ রয়েছে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ হিসেবে। ইরানের বর্তমান রেজিমের পতন হলে সেসব কৌশলগত বিনিয়োগ হুমকির মুখে পড়তে পারে। এ ছাড়া চীনের জন্য কৌশলগত ‘স্তান’ দেশগুলোতে পশ্চিমাদের ‘অনুপ্রবেশ’ সহজ হয়ে পড়বে ইরানের পতনে।