সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে এক ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান সমর্থিত বাহিনী। গত সোমবারের এই হামলায় দূতাবাসের অভ্যন্তরে থাকা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর একটি গোপন স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন লক্ষ্যবস্তু ও কর্মকর্তাদের ওপর তেহরানের ক্রমবর্ধমান পাল্টা আঘাতের অংশ হিসেবে এই হামলাকে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, দুটি ড্রোন সরাসরি দূতাবাস প্রাঙ্গণে আঘাত হানে। এতে দূতাবাসের ছাদের একটি অংশ ধসে পড়েছে এবং ভেতরে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে গেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি অভ্যন্তরীণ সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, হামলায় ভবনটির ‘কাঠামোগত ক্ষতি’ হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সিআইএ বা দূতাবাসের কোনো কর্মকর্তা হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
যদিও মার্কিন ও সৌদি সরকার রিয়াদে দূতাবাস কমপ্লেক্সে ড্রোন হামলার কথা স্বীকার করেছে, তবে সিআইএর স্টেশনটি যে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু ছিল, সে বিষয়ে তারা জনসমক্ষে কোনো মন্তব্য করেনি। সিআইএ কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা ইরানের জন্য একটি বড় ‘প্রতীকী বিজয়’। ১৯৫৩ সালে ইরানের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে উৎখাতে সিআইএ-র ভূমিকার কারণে তেহরান দীর্ঘকাল ধরে এই সংস্থাকে তাদের প্রধান শত্রু হিসেবে গণ্য করে আসছে। সৌদি আরবে সিআইএ-র উপস্থিতির ওপর এটি একটি বড় আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সাবেক সিআইএ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই স্টেশনের ক্ষয়ক্ষতি কাজের ক্ষেত্রে সাময়িক বিঘ্ন ঘটালেও তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের গোয়েন্দা সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। এই ধরনের পরিস্থিতিতে কাজ চালিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত বিকল্প ব্যবস্থা আমাদের রয়েছে।’
এদিকে, আজ বুধবার সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদ থেকে ৭৭ কিলোমিটার দক্ষিণে আল-খারজ শহরের আকাশে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে রুখে দিয়েছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। গত কয়েক দিনে রিয়াদ ও আল-খারজ এলাকায় অন্তত ৯টি ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি সামরিক বাহিনী।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মার্কিন নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে রিয়াদে অবস্থিত দূতাবাস। বর্তমানে দূতাবাসের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।