হোম > বিশ্ব > ভারত

‘শিবাজি: হিন্দু কিং ইন ইসলামিক ইন্ডিয়া’ বইয়ের জন্য ক্ষমা চাইল অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

সপ্তদশ শতকের মারাঠা যোদ্ধা রাজা ছত্রপতি শিবাজি মুঘল সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে জীবদ্দশাতেই নায়ক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। ছবি: সংগৃহীত

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেসের (ওইউপি) ভারতীয় শাখা প্রায় দুই দশক আগে প্রকাশিত একটি বইয়ে সপ্তদশ শতকের মারাঠা যোদ্ধা রাজা ছত্রপতি শিবাজিকে নিয়ে বিতর্কিত ও যাচাইহীন তথ্য উপস্থাপনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে। ‘শিবাজি: হিন্দু কিং ইন ইসলামিক ইন্ডিয়া’ শিরোনামের ওই বইটি ২০০৩ সালে মার্কিন লেখক জেমস লেইন রচনা করেছিলেন।

ওইউপি ইন্ডিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বইটিতে শিবাজিকে নিয়ে কিছু ‘অযাচাই করা বক্তব্য’ ছিল, যা অযথা কষ্ট ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। প্রকাশনা সংস্থাটি স্বীকার করেছে, বইটিতে ব্যবহৃত ভাষা শিবাজির প্রতি ভারতজুড়ে যে গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান রয়েছে, তা যথাযথভাবে প্রতিফলিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ জন্য তারা মহারাষ্ট্রের জনগণ, মারাঠা সম্প্রদায় এবং শিবাজিকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় ধারণকারীদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে।

শিবাজি শাহাজি ভোঁসলে ছিলেন পশ্চিম ভারতের সপ্তদশ শতকের এক প্রভাবশালী যোদ্ধা-রাজা। মুঘল সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে জীবদ্দশাতেই তিনি নায়ক হিসেবে পরিচিতি পান। বর্তমানে তিনি বিশেষ করে হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলোর কাছে এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রতীক। ভারতের বিভিন্ন স্থানে তাঁর নামে বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, সড়ক, শহর, চত্বর ও স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, বইটি প্রকাশের পর মহারাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদ শুরু হয়। সমালোচকদের মতে, বইটির শিরোনাম ও বিষয়বস্তু শিবাজির ঐতিহ্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে। তাঁরা বলেন, শিবাজি কোনো ধর্মীয় শাসক ছিলেন না; তিনি ছিলেন এক আঞ্চলিক সার্বভৌম শাসক, যার প্রশাসনে মুসলিম কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন এবং যিনি বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের সুরক্ষায় উদ্যোগী ছিলেন। একই সঙ্গে তাঁর শাসনামলের ভারতকে ‘ইসলামিক’ হিসেবে বর্ণনা করাও আপত্তিকর বলে বিবেচিত হয়।

২০০৪ সালে এই বিতর্ক চরমে পৌঁছায়। সে সময় প্রায় ১৫০ জন বিক্ষোভকারী পুনের ভাণ্ডারকর ওরিয়েন্টাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটে হামলা চালায়। অভিযোগ ছিল, প্রতিষ্ঠানটি লেখককে গবেষণায় সহায়তা করেছিল।

সম্প্রতি শিবাজির ১৩ তম বংশধর উদয়নরাজে ভোঁসলের ২০০৫ সালে করা একটি মানহানি মামলার প্রেক্ষিতে বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে। গত ১৭ ডিসেম্বর কোলহাপুর হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানিকালে ওইউপি ইন্ডিয়ার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাঈদ মানজার খান ও আরও তিনজনের আইনজীবীরা জানান, তাঁরা ভোঁসলের কাছে ক্ষমাপত্র দেবেন এবং তা বহুল প্রচারিত মারাঠি ও ইংরেজি পত্রিকায় প্রকাশ করবেন। একই সঙ্গে প্রকাশনা সংস্থাটি স্বীকার করেছে, বইটির ৩১,৩৩, ৩৪ ও ৯৩ নম্বর পৃষ্ঠায় শিবাজিকে নিয়ে থাকা কিছু বক্তব্য যাচাই করা হয়নি।

ইরানের ফারদিসে বৃহস্পতিবার রাতে ব্যাপক সহিংসতা হয়, মাটিতে পড়ে ছিলেন ৮-১০ জন

বিক্ষোভের মুখে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করার কথা স্বীকার করল ইরান সরকার

শুক্রবার রাতেও তেহরানের রাজপথ দখলে নিল বিক্ষোভকারীরা, সংঘর্ষ চলছে

ইরানে বিক্ষোভে অন্তত ৪৮ জন নিহত, দাবি এইচআরএএনএর

দমনপীড়নের মধ্যেও তেহরানের রাস্তায় ফের বিক্ষোভ, প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা

যোগযোগ বিচ্ছিন্ন ইরান থেকে যেসব খবর আসছে

শব্দের চেয়ে ১০ গুণ গতির মিসাইল দিয়ে ইউক্রেনে আঘাত রাশিয়ার

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে অস্তিত্ব সংকটে ন্যাটো

ইরানে বিক্ষোভ দমনে সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ জাতিসংঘের মানবাধিকারপ্রধানের

তেহরানে সাতটি নিথর দেহ পড়ে থাকার ভিডিও ভাইরাল, ফ্যাক্টনামেহ বলছে ফুটেজগুলো সাম্প্রতিক