মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ দুজনই তাঁর কাছে নতিস্বীকার করেছেন। মোদি তাঁকে বলেছেন, ‘স্যার, আমি কি আপনার সঙ্গে একটু দেখা করতে পারি?’ অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ফরাসি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর হুমকি দিয়ে তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁকে প্রেসক্রাইবড ওষুধের দাম কয়েক গুণ বাড়াতে বাধ্য করেছিলেন। ওয়াশিংটনে গত মঙ্গলবার নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির আইনপ্রণেতাদের এক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনায় ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছে, তাতে মোদি সন্তুষ্ট নন। তবে এই চাপের কারণেই তিনি রাশিয়ার তেল কেনা কমিয়েছেন। এর একপর্যায়ে মোদি নিজ থেকেই সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেন। বলেন, ‘স্যার, আমি কি আপনার সঙ্গে একটু দেখা করতে পারি?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ।’
বর্তমানে ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর রয়েছে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার শাস্তি হিসেবে আরোপ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ভারতীয় পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অ্যাপাচে হেলিকপ্টার পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল। এই পরিস্থিতি বদলাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই তারা ৬৮টি অ্যাপাচে হেলিকপ্টার কেনার অর্ডার দিয়েছে।
একই অনুষ্ঠানে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁকেও নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে ফরাসি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর হুমকি দিয়ে তিনি ফ্রান্সকে প্রেসক্রাইবড ওষুধের দাম কয়েক গুণ বাড়াতে বাধ্য করেছিলেন। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বহু দশক ধরে কার্যত বৈশ্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ভর্তুকি দিয়ে আসছে, অথচ আমেরিকান ভোক্তারা ফরাসি ভোক্তাদের তুলনায় বহুগুণ বেশি দামে ওষুধ কিনছে। এই বৈষম্য দূর করতে তিনি কথিত ‘মোস্ট ফেভার্ড নেশন’ নীতি কার্যকর করেছেন।