ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ধাওয়া করবে। তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করতে ‘সর্বশক্তি’ নিয়োগের কথাও জানিয়েছে আইআরজিসি। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
খবরে বলা হয়েছে, ইরানে ইসরায়েলি–মার্কিন আগ্রাসনের মধ্যেই আইআরজিসি আর রোববার ঘোষণা দিয়েছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী নেতানিয়াহুকে হত্যার প্রতিজ্ঞা করেছে। আইআরজিসির নিজস্ব সংবাদ প্ল্যাটফর্ম সেপাহ নিউজে বলেছে, ‘যদি শিশু হত্যাকারী অপরাধী (নেতানিয়াহু) জীবিত থেকে থাকে, তবে আমরা সর্বশক্তি নিয়ে তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাঁকে ধাওয়া করব।’
এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার প্রকাশিত ওই ভিডিওতে নেতানিয়াহুর এক হাতে ছয়টি আঙুল দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন অনেকে। ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি কি না, তা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি তাঁর বর্তমান অবস্থান নিয়েও ছড়িয়েছে নানা গুঞ্জন।
গত শুক্রবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও বার্তা শেয়ার করেন নেতানিয়াহু। সেখানে তিনি ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহতের পর এই যুদ্ধ এখন ১৫ তম দিনে পা রেখেছে।
ভিডিওটি প্রকাশের পরই তাতে কয়েক মিলিয়ন ভিউ হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, ভিডিওতে নেতানিয়াহুর ডান হাতে ছয়টি আঙুল দেখা যাচ্ছে। অনেকে একে ‘ক্ল্যাসিক এআই গ্লিচ’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যান্ত্রিক ত্রুটি হিসেবে অভিহিত করেছেন। এমনকি কেউ কেউ দাবি করেছেন, নেতানিয়াহু আর বেঁচে নেই এবং তাঁর পুরোনো বা এআই-নির্মিত ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে।
মার্কিন রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার ক্যান্ডেস ওয়েন্স প্রশ্ন তুলেছেন, ‘বিবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম) কোথায়? কেন তাঁর দপ্তর এআই ভিডিও প্রকাশ করছে এবং কেন হোয়াইট হাউসে গণ-আতঙ্ক বিরাজ করছে?’ তবে এক্সের নিজস্ব এআই চ্যাটবট ‘গ্রোক’ এই দাবিগুলো নাকচ করে দিয়েছে। গ্রোক জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর হাতে অন্য সবার মতো পাঁচটি আঙুলই রয়েছে। পোডিয়ামে তাঁর নির্দেশ করার ভঙ্গি এবং ক্যামেরার অ্যাঙ্গেলের কারণে এটি একটি দৃষ্টিভ্রম বা অপটিক্যাল ইলিউশন তৈরি করেছে মাত্র।
গ্রোক আরও জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর মৃত্যুর গুজবগুলো ভিত্তিহীন এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ-সংক্রান্ত খবরগুলো ভুয়া।
তবে বিতর্ক উসকে দিয়েছে কয়েকটি আনুষঙ্গিক ঘটনা। সম্প্রতি, একটি সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত সাক্ষাৎকারের মাঝখান থেকে উঠে যেতে দেখা গেছে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে। অনুষ্ঠান চলাকালীন তাঁকে জানানো হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুমে’ অবিলম্বে দেখতে চাচ্ছেন। স্কাই নিউজে বেসেন্টের সাক্ষাৎকার চলাকালে এক নারীকে হঠাৎ বলতে শোনা যায়, ‘প্রেসিডেন্ট আপনাকে এখনই ডাকছেন।’
এদিকে, বিবির ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহু সাধারণত সামাজিক মাধ্যমে বেশ সক্রিয়। তবে ৯ মার্চের পর থেকে তাঁর অ্যাকাউন্টে কোনো নতুন পোস্ট দেখা যায়নি।