শনিবার ভোর থেকে ইরানজুড়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলা শুরুর পর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর এসেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আজ রোববার সকালে এই চাঞ্চল্যকর খবরটি নিশ্চিত করেছে। খামেনির মৃত্যুর পর ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং দেশটির পরবর্তী উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
খামেনির মৃত্যু ও বর্তমান পরিস্থিতি
ইরানের ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার সকালে তেহরানে নিজের কার্যালয়ে থাকাকালীন হামলায় খামেনি নিহত হন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই খবর পাঠ করার সময় উপস্থাপককে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টার এই ভয়াবহ হামলায় ইরানে অন্তত ২০০ জন নিহত হয়েছেন। সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ইরানের অন্তত ৪০ জন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা রয়েছেন।
পাল্টাপাল্টি হামলা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা
খামেনি হত্যার প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্রদেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা শুরু করেছে। দুবাই, দোহা, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে।
ট্রাম্পের মন্তব্য ও মার্কিন প্রতিক্রিয়া
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে খামেনিকে ‘ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর ব্যক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘খামেনির মৃত্যু ইরানি জনগণের জন্য তাদের দেশ পুনরুদ্ধারের শ্রেষ্ঠ সুযোগ।’ ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলা অব্যাহত থাকবে।
তবে এই সামরিক অভিযান নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে তীব্র বিভাজন দেখা দিয়েছে। অনেক আইনপ্রণেতা দাবি করেছেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এই যুদ্ধ ঘোষণা অসাংবিধানিক। অন্যদিকে জাতিসংঘ এই অভিযানকে আঞ্চলিক শান্তি বিঘ্নিত করার একটি বিপজ্জনক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।