মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার কথা বলছেন, ঠিক সেই সময় সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে তেহরানের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে—যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আলোচনার অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে কঠোর করেছে ইরান।
তিনজন জ্যেষ্ঠ সূত্রের দাবি, ইরানের নীতিনির্ধারণে বিপ্লবী ইসলামিক গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো গুরুতর আলোচনা শুরু হলে ইরান বড় ধরনের ছাড় দাবি করবে।
সূত্রগুলো জানায়, সম্ভাব্য আলোচনায় ইরান শুধু যুদ্ধ বন্ধের দাবিই তুলবে না, বরং এমন কিছু শর্ত দেবে যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য ‘লাল রেখা’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে—ভবিষ্যতে সামরিক হামলা না করার নিশ্চয়তা, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ।
এ ছাড়া ইরান তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানাবে বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার আগে চলমান আলোচনাতেও এই বিষয়টি তেহরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘লাল রেখা’ ছিল।
এদিকে, যুদ্ধের অবসান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব কি না—তা নিয়ে ইরান প্রাথমিক পর্যায়ে পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিসরের সঙ্গে আলোচনা করেছে।
একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা এবং আরেকটি সূত্র সোমবার জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সরাসরি আলোচনা এই সপ্তাহেই ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
যদি এমন আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে ইরানের পক্ষ থেকে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অংশ নিতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা মূলত রেভল্যুশনারি গার্ডের হাতেই থাকবে বলে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।