আফ্রিকার দেশ মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল সাদিও কামারা একটি সমন্বিত সশস্ত্র হামলার মধ্যে নিহত হয়েছেন। দেশটির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় একযোগে চালানো হামলার প্রেক্ষাপটে এই মৃত্যুকে সামরিক সরকারের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে রোববার (২৬ এপ্রিল) একাধিক সূত্র জানায়, রাজধানী বামাকোর কাছাকাছি সামরিক শহর কাটিতে কামারার বাসভবনে হামলার পর তিনি নিহত হন। শনিবার দেশজুড়ে আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী এবং তুয়ারেগ বিদ্রোহীরা সমন্বিতভাবে ওই হামলা চালায়।
জেনারেল কামারা ২০২০ ও ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর গঠিত সরকারের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন। অনেকের মতে, তিনি ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্বেও আসতে পারতেন। এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘তিনি শাসক সামরিক নেতৃত্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। তার মৃত্যু সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বড় ক্ষতি।’
খবরে বলা হয়, কামারার বাসভবনে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলা চালানো হয়। কাটি শহরটি অত্যন্ত সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। সেখানে মালির বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আসিমি গইতা-ও বসবাস করেন। হামলার সময় গোইতাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং তিনি বর্তমানে সুস্থ ও নিরাপদ আছেন।
এই হামলায় অংশ নেয় আল-কায়েদা-সংযুক্ত ‘জামায়াত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন’ এবং তুয়ারেগদের ‘আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্ট’। এ ছাড়া রাজধানী বামাকোসহ উত্তরাঞ্চলের গাও, কিদাল এবং মধ্যাঞ্চলের সেভারে শহরেও হামলা চালানো হয়। স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, কিদাল এলাকায় রোববারও ভারী গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
বিশ্লেষক বুলামা বুকার্টি মনে করছেন, আগামী দিনগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল নিয়ে সংঘর্ষ আরও বাড়তে পারে। তিনি বলেন, আগে যেসব সশস্ত্র গোষ্ঠী একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করত, তারা এখন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যৌথভাবে হামলা চালাতে একত্র হয়েছে।
এদিকে, এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আফ্রিকান ইউনিয়ন, ওআইসি এবং আফ্রিকা বিষয়ক মার্কিন ব্যুরো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি মালির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।