হোম > স্বাস্থ্য > স্বাস্থ্য টিপস

নাজাল স্প্রে অতিরিক্ত ব্যবহারের ঝুঁকি ও প্রতিকার

ফিচার ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

ঠান্ডা বা অ্যালার্জিতে নাক বন্ধ হয়ে গেলে দ্রুত আরাম পেতে আমরা অনেকে নাজাল ডিকনজেস্ট্যান্ট স্প্রে ব্যবহার করি। প্রথম দিকে এটি জাদুকরি কাজ করলেও, দীর্ঘদিন অতিরিক্ত ব্যবহারে দেখা দেয় মারাত্মক বিপর্যয়। এসব স্প্রে নাকের ফুলে যাওয়া রক্তনালিগুলোকে দ্রুত সংকুচিত করে শ্বাসপ্রশ্বাস সহজ করে। কিন্তু একটানা ৩ থেকে ৫ দিনের বেশি ব্যবহার করলে রক্তনালিগুলো আর ওষুধে সাড়া দেয় না। ফলে ওষুধের প্রভাব শেষ হওয়া মাত্রই নাক আগের চেয়ে বেশি বন্ধ হয়ে যায়। এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় রাইনাইটিস মেডিকামেন্টোসা। সাময়িক স্বস্তির জন্য রোগী বারবার স্প্রে দিতে থাকলে এবং এটি ক্ষতিকর অভ্যাসে পরিণত হলে রাইনাইটিস মেডিকামেন্টোসা হয়।

অতিরিক্ত ব্যবহারের লক্ষণ

  • স্প্রে করার পরও বন্ধ নাক না খোলা বা খোলা থাকার স্থায়িত্ব কমে যাওয়া।
  • চোখ চুলকানো বা পানি পড়ার মতো অ্যালার্জির লক্ষণ না থাকলেও শুধু নাক বন্ধ থাকা।
  • ওষুধ বন্ধ করতে গেলে মাথাব্যথা, ঘুমের ব্যাঘাত বা অস্থিরতা কাজ করা।
  • মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া, নাকডাকা এবং মুখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেওয়া।

প্রতিরোধ ও মুক্তির উপায়

  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যেকোনো ডিকনজেস্ট্যান্ট স্প্রে ৩ দিনের বেশি ব্যবহার করা যাবে না।
  • নাকের বন্ধ ভাব দূর করতে স্প্রের বদলে নাজাল সালাইন ওয়াশ, অর্থাৎ লবণ পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার বা মুখে খাওয়ার অ্যান্টিহিস্টামিন ব্যবহার করা নিরাপদ।
  • রিবাউন্ড সমস্যা দেখা দিলে স্প্রে ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। প্রথম সপ্তাহটি কষ্টকর হলেও ধীরে ধীরে নাক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে শর্ট-কোর্স অরিজিনাল স্টেরয়েড বা অন্যান্য ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • নাজাল স্প্রেকে প্রতিদিনের অভ্যাস না বানিয়ে শুধু জরুরি অবস্থার ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, ওয়েব মেড