হোম > স্বাস্থ্য > স্বাস্থ্য টিপস

জিম ছাড়াই মন ভালো করার ম্যাজিক ট্রিক

ফিচার ডেস্ক  

ঘরের কাজের পাশাপাশি পার্ক, ছাদবাগান কিংবা প্রকৃতির কাছাকাছি ১০ মিনিট হাঁটলে রক্তচাপ এবং স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা দ্রুত কমে যায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

অনেকের একটা বদ্ধমূল ধারণা আছে। শারীরিক সুস্থতার জন্য জিমে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাম ঝরানো কিংবা কঠোর ব্যায়াম করা প্রয়োজন। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা ও মনস্তাত্ত্বিক গবেষণা এই ধারণা পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।

আপনি কি জানেন, ঘরের দৈনন্দিন সাধারণ কাজ, সিঁড়ি দিয়ে ওঠা অথবা ছোটখাটো হাঁটাচলাই আপনার মানসিক স্বাস্থ্য এবং মেজাজ নিমেষে ভালো করে দিতে পারে? গবেষকেরা বলছেন, মোটিভেশনের জন্য বসে না থেকে আজই আপনি ঘরের মেঝেটা ঝাড়ু দিন, লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন কিংবা গাড়ি না নিয়ে হেঁটে কাছের দোকান থেকে ঘুরে আসুন। কারণ, মাত্র ৫ থেকে ১০ মিনিটের এই সাধারণ শারীরিক নড়াচড়াও এক ঝটকায় আপনার মানসিক শক্তি অনেকটা বাড়ানোসহ মেজাজ ভালো করে দিতে পারে।

গবেষণা যা বলছে

জার্মানির কার্লসরুহে ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথসহ আন্তর্জাতিক গবেষকদের একটি বিশাল ডেটা সেট বিশ্লেষণ করার পর দেখা গেছে, পরিকল্পিত কিছু ব্যায়ামের বাইরে আমাদের অজান্তে ঘটে যাওয়া দৈনন্দিন নড়াচড়াগুলোও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সমান কার্যকরী। স্মার্টফোনের ট্র্যাকিং এবং পরিধানযোগ্য ফিটনেস ডিভাইসের মাধ্যমে দেখা গেছে, একজন মানুষ যখনই তাঁর সাধারণ অলস জীবনযাত্রার চেয়ে সামান্য একটু বেশি নড়াচড়া করেন, তখনই শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি এবং সতেজতা ফিরে আসে।

মস্তিষ্কের বিজ্ঞান ও ডোপামিন স্নোবল এফেক্ট

ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ডক্টর দারা হুপ বলেছেন, যেকোনো শারীরিক নড়াচড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মস্তিষ্ক থেকে এনডোরফিন এবং ডোপামিন নামক নিউরোট্রান্সমিটার কিংবা হরমোন নিঃসৃত হয়। এগুলো আমাদের মন ভালো করে দেয়। এ ছাড়া কাজের অনুপ্রেরণা বাড়িয়ে তোলে। অনেক সময় আমরা ভাবি, ‘আগে ইচ্ছা করুক, তারপর কাজ করব’। কিন্তু বিজ্ঞানের নিয়ম হলো, আপনাকে ছোট একটি কাজ আগে শুরু করতে হবে। তারপর মস্তিষ্ক ডোপামিন পুরস্কার দেবে, যা আপনাকে পরবর্তী বড় কাজটি করার ক্ষেত্রে মোটিভেশন জোগাবে। একে বলা হয় স্নোবল এফেক্ট। মাত্র ১৫টি জাম্পিং জ্যাক কিংবা ১০ মিনিট হাঁটার মাধ্যমে আপনি এই চক্র শুরু করতে পারেন।

মানসিক রোগ প্রতিরোধের হাতিয়ার

ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স টমোগ্রাফি কিংবা ব্রেন স্ক্যানের মাধ্যমে গবেষকেরা দেখেছেন, আমাদের মস্তিষ্কের সাবজেনুয়াল সিঙ্গুলেট কর্টেক্স নামক অংশটি আবেগ এবং মানসিক রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। যাঁদের মস্তিষ্কের এই অংশে গ্রে ম্যাটার বা ধূসর পদার্থের পরিমাণ কম, তাঁদের মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে অলস বসে থাকলে তাঁরা দ্রুত মানসিক শক্তি হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু আশার কথা হলো, এই ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিরা যখনই সিঁড়ি দিয়ে ওঠা বা হাঁটার মতো সাধারণ কাজ করেন, তখন সাধারণ মানুষের চেয়ে দ্রুত তাঁদের বেশি মানসিক শক্তি ফিরে আসে।

ব্যস্ত দিনে নড়াচড়া বাড়ানোর সহজ কৌশল

মানসিক সুস্থতা মানে শুধু রোগের অনুপস্থিতি নয়, এটি হলো মন ও শরীরের এক সুন্দর ভারসাম্য। তাই শরীর ও মন চাঙা রাখতে আজই লিফট বর্জন করুন, ঘরের টুকিটাকি কাজ নিজেই করুন আর অলসতা দূর করতে ছোট ছোট পদক্ষেপে শুরু করে দিন। জীবনযাত্রায় ছোট ছোট এসব পরিবর্তন এনে সহজে মন ফুরফুরে রাখা যায়। এ জন্য আরও যা করতে পারেন—

  • প্রতিদিনের অভ্যাসের সঙ্গে কিছুটা নড়াচড়া জুড়ে দিন। যেমন সকালে বা রাতে ব্রাশ করার সময় ১০ থেকে ১৫টি স্কোয়াট করে নিতে পারেন। অথবা একটু উঠবস করে নেওয়া যায়।
  • ঘরের কাজের পাশাপাশি পার্ক, ছাদবাগান বা প্রকৃতির কাছাকাছি আপনি ১০ মিনিট যদি হাঁটেন, তাহলে রক্তচাপ এবং স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা দ্রুত কমে যায়।
  • প্রতিদিন একই রাস্তায় না হেঁটে নতুন কোনো গলি বা এলাকা ঘুরে দেখা কিংবা নতুন কোনো সহজ ফিটনেস ক্লাসে অংশ নেওয়া আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং ডিজিটাল স্ক্রিনের ক্লান্তি দূর করে।

সূত্র: হেলথ লাইন, ট্যাটলার এশিয়া

প্রিয় দলকে সমর্থন মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে

ডেঙ্গু মোকাবিলায় রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ান

হাই-প্রোটিন ডায়েট কেন ওজন কমাতে কার্যকর

পেট ঠান্ডা রাখতে পারে যে সবজিগুলো

শরীর ডিটক্স করার সহজ উপায়

ঈদের আগে ও পরে দাঁতের যত্নে কী করবেন

এই গরমে আরামে থাকতে যা করবেন

আক্কেলদাঁতের ব্যথা কমাতে ঘরোয়া উপায়

মানসিক সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে যা করবেন

গরমে সাইনোসাইটিসের ব্যথা থেকে বাঁচার উপায়