হোম > স্বাস্থ্য > স্বাস্থ্য-গবেষণা

একে অন্যকে ‘প্রোটিন’ পাঠিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক থেকে বাঁচে ব্যাকটেরিয়া, চাঞ্চল্যকর দাবি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: সংগৃহীত

অ্যান্টিবায়োটিকের আক্রমণের মুখে ব্যাকটেরিয়া শুধু নিজেদের জিনই নয়, একে অন্যের কাছে কার্যকর প্রোটিন পাঠিয়েও তারা সম্মিলিতভাবে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রমাণটি এবারই প্রথমবারের মতো পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ‘সায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণা ভবিষ্যতে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার ঠেকাতে নতুন পথ দেখাতে পারে।

এত দিন বিজ্ঞানীরা জানতেন, ‘হরাইজন্টাল জিন ট্রান্সফার’ নামে পরিচিত একটি প্রক্রিয়ায় অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জিন একে অন্যের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারে ব্যাকটেরিয়া। বহুদিন ধরেই ধারণা ছিল, তারা ক্ষুদ্র চর্বিযুক্ত ঝিল্লিবেষ্টিত থলি বা ভেসিকলের মাধ্যমে কার্যকর প্রোটিনও আদান-প্রদান করে। কিন্তু এর সরাসরি প্রমাণ ছিল না।

যুক্তরাষ্ট্রের বেইলর কলেজ অব মেডিসিনের অণুজীববিজ্ঞানী ক্রিস্টোফ হারম্যান ও তাঁর সহকর্মীরা সেই প্রমাণই হাজির করেছেন। গবেষণায় তাঁরা ‘ইশেরিশিয়া কোলাই’ (E. coli) ব্যাকটেরিয়ার দুটি আলাদা দল তৈরি করেন। একটি দলে এমন একটি নিষ্ক্রিয় জিন ছিল, যার কারণে তারা গ্যালাক্টোজ নামের একটি সাধারণ শর্করা ব্যবহার করতে পারত না। অন্য দলটি ‘ক্রে রিকম্বিনেজ’ (Cre recombinase) নামে একটি বিশেষ প্রোটিন তৈরি করতে সক্ষম ছিল, যা ওই নিষ্ক্রিয় জিনকে আবার সচল করে দিতে পারে।

গবেষণার প্রধান লেখক অ্যালিস এক্স ওয়েন জানান, প্রথমে তাঁদের ধারণাই ছিল না যে পরীক্ষাটি সফল হবে। কিন্তু বিস্ময়করভাবে দেখা যায়, ব্যাকটেরিয়াগুলো সত্যিই একে অন্যের কাছে প্রোটিন পাঠাচ্ছে—যদিও স্বাভাবিক অবস্থায় এর গতি ছিল খুব ধীর।

এরপর গবেষকেরা ব্যাকটেরিয়াকে অ্যান্টিবায়োটিকের সংস্পর্শে আনলে চিত্রটি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। তখন প্রোটিন স্থানান্তরের হার প্রায় চার হাজার গুণ বেড়ে যায়। গবেষণায় দেখা যায়, অ্যান্টিবায়োটিকের চাপে একদল ব্যাকটেরিয়া প্রচুর প্রোটিনসমৃদ্ধ ভেসিকল তৈরি করে পরিবেশে ছেড়ে দেয়, আর অন্য একটি দল সুপ্ত বা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় চলে গিয়ে শক্তি সঞ্চয় করে টিকে থাকে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই ভেসিকলের মাধ্যমে পাওয়া প্রোটিন সুপ্ত ব্যাকটেরিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত ডিএনএ মেরামত করতে এবং বিপদ কেটে গেলে আবার স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি শুরু করতে সাহায্য করে। এমনকি ভিন্ন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার মধ্যেও এই প্রোটিন বিনিময় ঘটতে দেখা গেছে।

বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত নন, কেন চাপের মুখে থাকা ব্যাকটেরিয়া নিজেদের প্রতিবেশীদের সাহায্য করে। তবে তাঁদের ধারণা, এটি পুরো ব্যাকটেরিয়া জনগোষ্ঠীকে টিকিয়ে রাখার একটি কৌশল হতে পারে।

গবেষকদের মতে, অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হওয়ার আগে ‘টিকে থাকার’ যে ধাপটি ঘটে, এই নতুন প্রক্রিয়া সেটির সঙ্গেই জড়িত। তাই ভবিষ্যতে যদি এই প্রোটিন আদান-প্রদান বন্ধ করা সম্ভব হয়, তবে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণুর বিস্তারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা যেতে পারে।

প্রতি ৫ জনে একজন আক্রান্ত হবেন ক্যানসারে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভয়াবহ সতর্কবার্তা

বেশি ঘুমও কি কম ঘুমের মতোই ক্ষতিকর

দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে তরুণ প্রজন্ম—আছে ক্যানসার বাড়ার যোগসূত্রও

স্ট্রোকে মস্তিষ্কের ক্ষতি কমানোর উপায় খুঁজে পেয়েছেন চীনা গবেষকেরা

তরুণীদের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, গবেষণায় জানা গেল কারণ

কোন চায়ে মিলবে স্বাস্থ্যসুবিধা

দিনে এক গ্লাসের কম মদ্যপানেও বাড়ে ১০ ক্যানসারের ঝুঁকি: গবেষণা

বিড়াল পালনে বাড়তে পারে সিজোফ্রেনিয়ার ঝুঁকি

প্রথমবার এআইয়ের নকশায় তৈরি হলো ‘সুপার-অ্যান্টিজেন’ টিকা

ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন আবিষ্কার, টিকায় নির্মূল হবে টিউমার