মেনোপজ মানেই নারীর জীবনের শেষ সময় নয়; বরং এক নতুন অধ্যায়ের সূচনামাত্র। পিরিয়ড শুরু যেমন নারীদের জীবনে একটি স্বাভাবিক ঘটনা, তেমনি পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যাওয়াও। এ সময়ে জীবনকে নতুনভাবে সাজিয়ে নিতে হবে এবং তা উপভোগ করতে হবে। নারীদের পিরিয়ড বন্ধ হয়ে গেলে একে মেনোপজ বলে এবং পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগের সময়টাকে পেরি-মেনোপজ বলা হয়। সাধারণত বাংলাদেশে নারীদের ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সে পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যায়।
এ সময়ে শরীরে নানা লক্ষণ দেখা দেয়, যাকে মেনোপজাল সিনড্রোম বলে। যেমন—
» অতিরিক্ত গরম লাগা
» পিরিয়ড অনিয়মিত বা বন্ধ হয়ে যাওয়া
» যোনিপথ শুষ্ক হয়ে যাওয়া
» ঘুম কমে যাওয়া
» মুড সুইং
» বুক ধড়ফড় করা
» হাত-পা জ্বালাপোড়া করা
» যৌন ইচ্ছা বা আগ্রহ কমে যাওয়া
» ভুলে যাওয়া বা ব্রেন ফগ
মেনোপজের কারণ
» বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেয়েলি হরমোন ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন কমে যাওয়া।
» সার্জারির মাধ্যমে জরায়ু বা ওভারি কেটে ফেলা।
» কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি।
মেনোপজে স্বাস্থ্যঝুঁকি কিছু শারীরিক রোগ মেনোপজের কারণে বাড়তে পারে। যেমন—
» হৃদ্রোগ
» হাড় ক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিস
» প্রস্রাব আটকে রাখতে না পারা
» যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া
» ওজন বাড়া
এ সময়ে করণীয়
» প্রোটিন, বাদাম ও সবুজ ফলমূলের মতো খাবার খেতে হবে নিয়মিত।
» প্রতিদিন ৩০-৪০ মিনিট ব্যায়াম করা।
» চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি নেওয়া।
» নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো।
ডা. মো. মাজহারুল হক তানিম
ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন রোগ বিশেষজ্ঞ, অরোরা স্পেশালাইজড হাসপাতাল,কাকরাইল, ঢাকা