স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, উপজেলা পর্যায়ে ৩১০টি হাসপাতালে প্রায় ৪৮৫টি এক্স-রে মেশিন এবং ২৫২টি হাসপাতালে প্রায় ৩৯৫টি আলট্রাসাউন্ড মেশিন অকেজো হয়ে পড়ে আছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
মন্ত্রী জবাবে বলেন, ৩১০টি হাসপাতালে অকেজো মেশিনের সংখ্যা প্রায় ৪৮৫টি, যার প্রায় ৪০ শতাংশ মেরামত অযোগ্য ও বাকি ৬০ শতাংশ মেরামতের জন্য টেন্ডার করা হয়েছে। ২৫২টি হাসপাতালে অকেজো আলট্রাসাউন্ড মেশিনের সংখ্যা প্রায় ৩৯৫টি, যার প্রায় ৩৫ শতাংশ মেরামত অযোগ্য এবং বাকি ৬৫ শতাংশ মেরামতযোগ্য এবং সেগুলো মেরামতের জন্য টেন্ডার করা হয়েছে
জামালপুর–৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এমআরআই, সিটি স্ক্যান, ডায়ালাইসিস ও আইসিইউয়ের ভারী যন্ত্রপাতি ক্রয় প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। বর্তমান সরকার এই ভারী যন্ত্রপাতি ক্রয় প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করেছে এবং ৪টি এমআরআই মেশিন ক্রয় কার্যক্রম চলমান।
গাজীপুর–৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে অনুমোদিত চিকিৎসকের পদের সংখ্যা ৪১ হাজার ৮০৬টি, শূন্যপদ রয়েছে ৯ হাজার ৪০৭টি।
ফেনী–২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অ্যান্টিবায়োটিক–প্রতিরোধী জীবাণুর প্রাদুর্ভাব একটি ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অ্যান্টিবায়োটিকের অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত ব্যবহার, সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং মানব ও প্রাণী খাতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে এ সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে এবং চিকিৎসা কার্যক্রম আরও জটিল হয়ে উঠছে। এ সময় জীবাণু শনাক্তকরণ এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স নির্ণয়নের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।