হোম > স্বাস্থ্য

জনবল সংকট ও কাজের চাপে স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব: নিপসমের গবেষণা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

দীর্ঘদিনের জনবল সংকট ও অতিরিক্ত কাজের চাপসহ নানা কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে কর্মক্ষেত্রের দ্বন্দ্ব দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া যোগাযোগের ঘাটতি, দায়িত্বের অস্পষ্টতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে কনিষ্ঠ কর্মীদের সীমিত অংশগ্রহণ এ বিরোধকে তীব্রতর করছে। এভাবে দলগত সমন্বয় ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম)-এর এক গবেষণায় এ সব তথ্য উঠে এসেছে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীর নিপসম মিলনায়তনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্ব খাতে পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রমের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মক্ষেত্রের দ্বন্দ্ব এবং যক্ষ্মা (টিবি) স্ক্রিনিংয়ে সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন (সিআরপি) পরীক্ষার ব্যবহারযোগ্যতা—এই দুটি গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়।

‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মক্ষেত্রের দ্বন্দ্বের ধরন, কারণ ও ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক গবেষণাটি গত বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত দেশের নির্বাচিত কয়েকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিচালিত হয়। এতে ৪৫৬ জন চিকিৎসক, নার্সিং সুপারভাইজার, সিনিয়র স্টাফ নার্স, রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার (আরএমও) এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রের দ্বন্দ্ব ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৫ জন কি-ইনফরম্যান্টের (মূল তথ্যদাতা) সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এতে প্রধান গবেষক ছিলেন নিপসমের সহকারী অধ্যাপক ডা. আমেনা খাতুন মিতা।

গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটে আন্তব্যক্তিক দ্বন্দ্ব। ভুল যোগাযোগ, চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে মতবিরোধ, সহকর্মীকে দোষারোপ এবং রোগী ও তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে বিরোধ এ ধরনের দ্বন্দ্বের প্রধান কারণ। কর্মীদের দায়িত্বের সময়সূচি নিয়ে অসন্তোষ, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং কর্মীদের দায়িত্বের অস্পষ্টতাও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বড় কারণ। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যেও পেশাগত বিরোধের ঘটনা ঘটছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

গবেষকেরা কর্মক্ষেত্রের দ্বন্দ্ব কমাতে স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ জোরদার, নিয়মিত স্টাফ সভা আয়োজন, দায়িত্ব ও কাজের পরিধি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ, পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের মাধ্যমে কাজের সুষম বণ্টন, দলগত কাজ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সহায়ক নেতৃত্ব ও তদারকি নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছেন।

দেশে যক্ষ্মা (টিবি) স্ক্রিনিং বিষয়ক অন্য গবেষণাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মত দেন, যক্ষ্মা পরীক্ষায় সিআরপি র‍্যাপিড টেস্ট সহায়ক (কমপ্লিমেন্টারি) পরীক্ষা হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এটি এককভাবে স্ক্রিনিং পরীক্ষার বিকল্প নয়, কারণ টিবি ট্রায়াজ টেস্টের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত ন্যূনতম মান পূরণ করতে পারেনি।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিনটি বিশেষায়িত হাসপাতালের ডটস ক্লিনিক ও অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) কেন্দ্রে আসা সম্ভাব্য ও নিশ্চিত যক্ষ্মা রোগীদের নিয়ে পরিচালিত এ গবেষণার প্রধান গবেষক ছিলেন অধ্যাপক ডা. ফাহমিদা খানম।

গবেষণায় সিআরপি পরীক্ষার সংবেদনশীলতা ৬৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং সুনির্দিষ্টতা ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ পাওয়া গেছে। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী টিবি ট্রায়াজ টেস্টের সংবেদনশীলতা ৯০ শতাংশের বেশি এবং সুনির্দিষ্টতা ৭০ শতাংশের বেশি হওয়া প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকার ধীরে ধীরে প্রতিরোধভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এ পরিবর্তনকে কার্যকর করতে গবেষকদের আরও বেশি গবেষণা পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।

নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার, বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েবা আখতার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল।

হামের উপসর্গে মৃত্যু আরও ৪, মোট ৮৩৫

ডেঙ্গুতে মৃত্যু অর্ধশত ছাড়াল

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৫১২

দেশীয় প্রযুক্তির ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন মেশিন উৎপাদনে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা শুরু হচ্ছে আগামীকাল থেকে

হামের উপসর্গে আরও ৫ মৃত্যু, মোট ৮২৫

হামের উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু, মোট ৮২০

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৫৮

হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু, মোট ৮১৬

আইসিইউতে ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণুর উচ্চ ঝুঁকি