আমাদের দৈনন্দিন জীবনে হাঁটার গতি শুধু চলাচলের মাধ্যম নয়। এটি মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। বৈজ্ঞানিক জার্নাল ‘জামাস নেটওয়ার্ক ওপেন’–এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ক্লিনিকে করা সাধারণ হাঁটার গতি পরীক্ষা কিংবা দৈনন্দিন জীবনের হাঁটার ধাপ ও গতি, উভয় পদ্ধতিই মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে এবং আয়ুষ্কাল সম্পর্কে পূর্বাভাস দিতে সহায়তা করে।
‘হোয়াইটহল টু অ্যাকসেলেরোমিটার সাবস্টাডি’ শীর্ষক গবেষণাটি ইউরোপে প্রায় ১২ বছর ধরে পরিচালনা করা হয়। এই গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিটি স্ট্যান্ডার্ড বৃদ্ধিতে ক্লিনিক্যাল হাঁটার গতি মৃত্যুর ঝুঁকি ২৩ শতাংশ কমিয়ে দেয়। একই ভাবে, দৈনন্দিন জীবনে মাঝারি বা দ্রুত গতির ক্যাডেন্সও মৃত্যুর ঝুঁকি ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানান, দ্রুত হাঁটার অর্থ হলো হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, পেশি এবং মস্তিষ্ক একসঙ্গে সুসমন্বিতভাবে কাজ করছে, যা ভালো স্বাস্থ্য নির্দেশ করে।
‘ব্রিটিশ জার্নাল অব স্পোর্টস মেডিসিন’-এ প্রকাশিত অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ১০ হাজার ধাপ হাঁটার লক্ষ্য সবার পক্ষে পূরণ করা সম্ভব না হলেও হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিয়ে এর সুফল পাওয়া সম্ভব। এক লাখের বেশি মানুষের ওপর চালানো এ গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দিনে ৫ হাজার ধাপের কম হাঁটেন, তাঁরা একটু বেশি গতিতে অর্থাৎ প্রতি মিনিটে ৮০ ধাপের বেশি হাঁটলে তাঁদের মৃত্যুর ঝুঁকি ধীর গতিতে ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার ৫০০ ধাপ হাঁটা মানুষের কম হতে পারে। অর্থাৎ, দীর্ঘ পথ হাঁটতে না পারলেও হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিয়ে একই সুফল পাওয়া সম্ভব।
শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে ব্যায়ামের তীব্রতা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, সুষম ওজন বজায় রাখা, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক কার্ডিয়ামেটাবলিক ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, হুট করে দ্রুত হাঁটার চেয়ে নিজের শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী চলা এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সবচেয়ে জরুরি। হঠাৎ করে হাঁটার গতি কমে গেলে বা কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা বয়সজনিত ভেবে এড়িয়ে না গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ছোট ছোট পদক্ষেপে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাসই জীবনকে দীর্ঘ ও সুস্থ রাখতে পারে।
সূত্র: হেলথ লাইন