হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে রাজধানীর পাশাপাশি দেশব্যাপী নিয়মিত পরিদর্শন কার্যক্রম চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেছেন, অনিয়ম রোধ ও সেবার মান নিশ্চিত করতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন এলাকায় ক্লিনিক পরিদর্শন করা হবে।
আজ মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা জানান। তিনি বলেন, রাজধানীর আসাদগেট থেকে শ্যামলী রিং রোড এলাকায় আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিটি ক্লিনিক পরিদর্শন করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান ঘাটতি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের স্বাস্থ্যসেবাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ব্যক্তিগত মুনাফার জন্য দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া কোনো প্রতিষ্ঠানকে ছাড় দেওয়া হবে না।
স্বাস্থ্য খাতে অনিয়মের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অ্যাকশন বলতে কাউকে শাস্তি দেওয়া বা বন্ধ করে দেওয়া নয়; যেখানে উন্নতির প্রয়োজন, সেখানে উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। তবে গভীর অবহেলা বা গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন জানান, এই পরিদর্শনের উদ্দেশ্য কাউকে শাস্তির মুখে ফেলা নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, ‘যখন-তখন আমরা পরিদর্শনে যাব। লক্ষ্য একটাই—জনগণ যাতে ভালো চিকিৎসাসেবা পায়, তা নিশ্চিত করা।’
দেশজুড়ে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সিভিল সার্জন ও স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের ক্লিনিকগুলোতেও নিয়মিত নজরদারি চালানো হবে। সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শুধু ঢাকা নয়, দেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বাস করেন। তাই সারা দেশেই এই কার্যক্রম চালাতে হবে।
এর আগে গতকাল সোমবার রাজধানীর শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে সেটি সিলগালা করার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। একটি টেলিভিশন প্রতিবেদনে অভিযোগ ওঠে, অষ্টম শ্রেণি পাস এক ব্যক্তি অর্থোপেডিক সার্জন পরিচয়ে সেখানে অস্ত্রোপচার করছেন। এ ছাড়া হাসপাতালটিতে অপারেশনে যুক্ত ব্যক্তিদের কেউ দালাল, কেউ চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগে সারা দেশে অভিযান জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘাটতি পূরণের নির্দেশ দেওয়া হবে। নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।