হোম > ফ্যাক্টচেক > দেশ

সন্তানদের খেজুর খাইয়ে যুদ্ধে পাঠাচ্ছেন ইরানি মায়েরা—ভাইরাল ভিডিওটি সিরিয়ার

ফ্যাক্টচেক ডেস্ক

ইরানি মায়েরা সৈনিক সন্তানদের খেজুর খাইয়ে বিদায় দিচ্ছেন দাবিতে পোস্ট। ছবি: স্ক্রিনশট

ইরানি মায়েরা তাদের সৈনিক সন্তানদের বিদায় দিচ্ছেন নবীর সুন্নাহ অনুসারে খেজুর খাইয়ে ও দোয়া করে!— দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান-ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এমন দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি সহজেই নেটিজেনদের নজরে এসেছে।

এই দাবিতে ফেসবুকে ভাইরাল কিছু পোস্ট আছে এখানে, এখানে , এখানে , এখানে এবং এখানে

ইন্সট্রাগ্রামে ভিডিও আছে এখানে, এখানে

আলোচিত দাবিতে ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত ৫ মার্চ একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়। শেয়ার করা ২১ সেকেন্ডের ভিডিওটি আজ বেলা ১টা ৫৪ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার ৩০০টি রিয়েকশন পড়েছে। পোস্টটিতে ১ হাজার শেয়ার এবং ১০০টি কমেন্ট রয়েছে।

শেয়ার করা পোস্টের কমেন্টগুলো যাচাই করে দেখা যায়, অধিংকাংশ ব্যবহারকারী ভিডিওটি ইরানের ঘটনা মনে করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ লিখেছেন, ওদের পেট থেকে জন্ম নেয় ওমর, আবু বকর, সালাউদ্দিন আইয়ুবী,ওসমান গাজি, সুলতান রোকন উদ্দিন আর আমাদের দেশে মায়েদের পেটে জন্ম হয় সন্ত্রাসী, ধর্ষণকারী, চান্দাবাজ, গাজাখোঁর। কেউ লিখেছেন, আরবের খুরমা খেজুরের সঙ্গে যদি মায়েদের দোয়া থাকে আল্লাহর রহমতে কে ঠেকায়। কেউ আবার দাবি করছেন, এটা সিরিয়ার ঘটনা।

আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, মধ্যবয়স্ক এক নারী রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন আর তাঁর পাশে এগিয়ে চলা সাঁজোয়া যানে থাকা অস্ত্রসহ সামরিক পোশাক পরিহিত যুবকদের উদ্দেশে কিছু ছুড়ছেন। এ সময় রাস্তার পাশে আরও অনেক সাধারণ মানুষকে দেখা যায়। এ ছাড়া ভিডিওতে সাইরেন ও গাড়ির শব্দ শোনা যায়।

ভিডিওটির ওপরের অংশে সবুজ এবং কমলা রঙের লোগোটি আরবিতে Syri Net ( سوريا نت) দেখা যায়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই নামে একটি ওয়েবসাইট সাধারণত সিরিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য সংশ্লিষ্ট খবর প্রচার করে।

ভিডিওতে থাকা লোগোর সূএ ধরে অনুসন্ধানে Syri Net-এর ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ওই ভিডিওর সঙ্গে ভাইরার ভিডিওর হুবহু মিল রয়েছে। ভিডিওর ক্যাপশনে আরবি ভাষায় লেখা, ‘আহা, তোমাদের স্বাগত... আল্লাহর কসম, তোমাদের স্বাগত।’ কামিশলিতে এক সিরীয় নারীর আনন্দ প্রকাশ।

ভাইরাল ভিডিওর সাথে Syri Net এর ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে প্রচারিত ভিডিওর সাদৃশ্য। স্ক্রিনশট

বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম রেডিট সাব-রেডিটে ভাইরাল ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়। ওই পোস্ট থেকে জানা যায়, সিরিয়ার সরকারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী কামিশলিতে (Qamishli) পৌঁছানো উপলক্ষে আনন্দ প্রকাশ করতে এক সিরিয়ান নারী মিষ্টি বিতরণ করছেন। পোস্টে আরও বলা হয়, এই ভিডিওটি কুর্দি-নেতৃত্বাধীন এসডিএফ/ওয়াইপিজির (সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে সক্রিয় দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠী)-এর দমনমূলক এবং নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার কারণে আরব বাসিন্দাদের ক্লান্ত ও অতিষ্ঠ হয়ে ওঠার চিত্রটি ফুটিয়ে তোলে। এই এলাকাগুলো আগে এসডিএফ/ওয়াইপিজির এর নিয়ন্ত্রণে ছিল, কিন্তু এখন এসডিএফ এবং সিরীয় সরকারের মধ্যে একীভূতকরণ চুক্তির অংশ হিসেবে এগুলো সিরীয় সরকারের এখতিয়ারে এসেছে।

অনুসন্ধানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আরও কিছু অ্যাকাউন্টে (, ) থেকে জানা যায়, ভিডিওটি সিরিয়ার এবং ওই নারী সিরিয়ার কামিশলি এলাকার বাসিন্দা।

সিদ্ধান্ত

ইরানি মায়েরা সৈনিক সন্তানদের খেজুর খাইয়ে বিদায় দিচ্ছেন—এমন দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার। প্রকৃতপক্ষে সিরিয়ার কামিশলিতে সরকারি নিরাপত্তা বাহিনী পৌঁছালে এক নারী আনন্দ প্রকাশ করে মিষ্টি বিতরণ করেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসের ঘটনা এটি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম বা যেকোনো মাধ্যমে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য বিভ্রান্তিকর মনে হলে তার স্ক্রিনশট বা লিংক কিংবা সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আমাদের ই-মেইল করুন। আমাদের ই-মেইল ঠিকানা factcheck@ajkerpatrika.com

ট্রেন দুর্ঘটনা দাবিতে ছড়ানো ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি

‘জামায়াতের ১৬৮ আসন ইঞ্জিনিয়ারিং করে কমিয়ে ৬৮’—গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য সৈয়দা রিজওয়ানার নামে প্রচার

আমার সম্পদের হিসাব চাইলে ১৮ কোটি মানুষ রাজপথে নামবে— আসিফ মাহমুদ এমন কথা বলেননি

হাদি হত্যার বিচার হলে আজ খামেনি মরতেন না—জুমা এমন কথা বলেননি

‘ববি হাজ্জাজের পরিণতি টাকলা মুরাদের মতো হবে’— সাদিক কায়েমের নামে ভাইরাল ফটোকার্ডটি বানোয়াট

টিকটক বন্ধ করছে সরকার—দাবিতে ভাইরাল ফটোকার্ডটি বানোয়াট

চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য থাকলে জাতীয় পুরস্কার নয়— এমন সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার

পুলিশের হাতে আটক মাদকসেবীকে যুবদল নেতা বলে প্রচার

বিএনপি নেতার বৃদ্ধকে মারধরের দাবিটি সঠিক নয়, ঘটনাটি নেপালের

এখন আর কাজ করতে পারছেন না— ভোক্তার আব্দুল জব্বারের নামে ছড়ানো ফটোকার্ডটি ভুয়া