সন্তানকে কোলে নিয়ে বসা অবস্থায় চট্টগ্রামের খাগড়াছড়িতে এক নারীকে শিবিরকর্মী গুলি করে হত্যা করেছে— এমন দাবিতে একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে প্রায় একই ক্যাপশনে ছড়ানো হয়। ভিডিওতে এক শিশুসহ এক নারীকে টিনের চালের ঘরে বসে থাকতে দেখা যায়। হঠাৎ করে বিকট আওয়াজ ও চিৎকারে ভিডিওটিতে ঝাঁকুনি দেখতে পাওয়া যায়।
‘Tulip Siddiq MP’ নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, ‘খাগড়াছড়িতে এক হিন্দু নারীকে গুলি করে হত্যা করেছে শিবির কর্মী।’ (বানান অপরিবর্তিত)
প্রচারিত দাবিতে পেসবুকে আরও ফেসবুকে পোস্ট আছে এখানে ( আর্কাইভ ), এখানে ( আর্কাইভ ) এবং
ইন্সটাগ্রামে পোস্ট আছে এখানে ( আকাইভ )।
ভিডিওটির কিছু কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে Shanti Baglary নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একই ভিডিও পাওয়া যায়। ১৩ সেকেন্ডের এই ভিডিওটি গত বছরের ২৩ মার্চ পোস্ট করা হয়েছে। এর সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে থাকা নারীর মুখমণ্ডল, পোশাক, কোলে থাকা শিশু, শিশুর চেহারা ও পোশাকের সাদৃশ্য রয়েছে।
অ্যাকাউন্টটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, তিনি একজন ডিজিটাল কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। অ্যাকাউন্টটির অ্যাবাউট অপশনে লেখা থেকে বোঝা যায়, এটি ভারত থেকে পরিচালিত হয়। এ ছাড়া অ্যাকাউন্টটির পর্যালোচনা করে জানা যায়, তিনি একজন ভ্লগার এবং কমেডিয়ান। অ্যাকাউন্টের বেশিরভাগ ভিডিও বিনোদনধর্মী ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় এডিট করে তৈরি।
পাশাপাশি, এই অ্যাকাউন্টের ভিডিওতে থাকা নারী ও শিশুকে গত বছরের ২৩ মার্চ পরবর্তী সময়ে একাধিক ভিডিওতে (১ , ২ , ৩ ) দেখতে পাওয়া যায়। অর্থাৎ, ধারণা করা যায় ভাইরাল ভিডিওর নারীটি মারা যাননি।
আরও অনুসন্ধানে Shanti Baglary নামের ইনস্টাগ্রাম অ্যকাউন্ট পাওয়া যায়। এই অ্যাকাউন্টেও উল্লেখ করা রয়েছে, এটি বিনোদন ক্যাটাগরির অ্যাকাউন্ট এবং ভারত থেকে পরিচালিত। এখানেও প্রায় একই ধরনের ভিডিও পোস্ট করতে দেখা যায়। এছাড়া Shanti Baglary নামের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটিতে তাঁদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের লিংকও যুক্ত করা রয়েছে।
সুতরাং, সন্তান কোলে বসা অবস্থায় চট্টগ্রামের খাগড়াছড়িতে এক নারীকে গুলি করে হত্যা করার দাবিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি এক ভারতীয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের ভিডিও এবং পুরো ঘটনাই সাজানো।