সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে, ‘পটুয়াখালীর বাউফলে হিন্দু মেয়েকে পিস্তল ঠেকিয়ে তুলে নিয়ে গেছে বিএনপি নেতারা।’
ছড়ানো ভিডিওতে সিঁথিতে সিঁদুর পরা এক নারীকে হিন্দুধর্মাবলম্বী বলে পরিচয় দিয়ে অভিযোগ করতে দেখা যায়। তিনি বলেন, তাঁর মেয়ে বিকেল ৪টার দিকে ফুচকা খেতে বের হওয়ার পর কালিশুড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি ধলু মোল্লা আর নাতি সোহান মোল্লা পিস্তল ঠেকিয়ে তুলে নিয়ে গেছেন। তিনি আরও বলেন, থানায় এবং সেনাবাহিনীর কাছে অভিযোগ করেও কোনো সাড়া পাননি।
এই দাবিতে ফেসবুকে ভিডিও আছে এখানে , এখানে , এখানে এবং এখানে।
আজকে পত্রিকার অনুসন্ধান:
অনুসন্ধানে Bauphal Today নামক একটি ফেসবুক পেজে গত ১০ ফেব্রুয়ারি “বাউফলে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক কলেজ ছাত্রীকে অ’প’হ’র’ণে’র অভিযোগ মায়ের: ভিডিও বার্তায় যা জানাল মনীষা” শিরোনামে ৫০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।
ভিডিওতে এক তরুণীকে বলতে দেখা যায়, “আসসালামু আলাইকুম। আমি মনীষা। আমি শোহানের সাথে নিজের ইচ্ছায়, স্ব-ইচ্ছায় আমি ওর সাথে চলে আসছি। আমি আর বাসায় যাব না। আমি ওর সাথে থাকতে চাই। আমার বাবা-মা যা বলছে সব মিথ্যা। আমি নিজের ইচ্ছায় ওর সাথে চলে আসছি। আমি ওর সাথে সংসার করতে চাই, ওর সাথে থাকতে চাই। আর আমার মান-ইজ্জত আমার বাবা-মা-ই নষ্ট করছে। তারা সম্পূর্ণ ভিডিওটা আমাদের লাইভ করে সবার মধ্যে নষ্ট করে দিছে। আমি তাদের সাথে যেতে চাই না। আমি শোহানের সাথে থাকতে চাই।”
‘সেই মনীষা বাউফল থানা হাজতে! পরিবারের কাছে যেতে চাচ্ছে না’ (বানান অপরিবর্তিত) ক্যাপশনে পেইজে আরও ১৩ সেকেন্ডের আরও একটি ভিডিও পাওয়া যায়।
এ ছাড়া ‘বাউফল থানায় মনীষার মায়ের আর্তনাদ’ শিরোনামে ১৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায় পেজটিতে। ভিডিওতে মেয়ের জন্য অভিযোগকারী নারীকে আহাজারী করতে দেখা যায়।
এ ছাড়া গত ১০ ফেব্রুয়ারি একই পেজে, ‘পরিবার নয় প্রিয় মানুষের সঙ্গেই থাকতে চায় বাউফলের মনীষা’ শিরোনামে একটি ফটোকার্ডও পাওয়া যায়।
Bauphal Face নামের আরও একটি ফেসবুক পেজে ‘মনিষার মা ও সালমা আলম লিলি। অ’পহ’র’ণের দা’য়ে ১ নম্বর আ’সা’মি হলো ছেলে।’ শিরোনামে আরও একটি ভিডিও পাওয়া যায়।
আজকের পত্রিকার বাউফল প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্যাক্টচেক টিম। তিনি জানান, মনীষা বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তাঁর মা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর ধলু মোল্লা মেয়েটিকে নিয়ে থানায় হাজির হন। সেখানে পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে মনীষা বলেন, তাঁকে অপহরণ করা হয়নি; তিনি নিজের ইচ্ছায় সোহানের সঙ্গে গেছেন।