‘রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিরোধিতা থাকবেই, কিন্তু দিনশেষে জামায়াত-বিএনপি দুই পিতার এক পুত্র’—আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের নামে এমন একটি উদ্ধৃতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এই দাবিতে পোস্ট আছে এখানে, এখানে এবং এখানে।
‘রক্ষীবাহিনী-Rokkhibahini’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে আলোচিত দাবিতে ২৫ এপ্রিল দুপুর ৩টা ৩ মিনিটে একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়। আলোচিত দাবিতে এই পোস্টটিই সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। পোস্টটিতে ২৮ এপ্রিল সকাল ১১টা পর্যন্ত ১ হাজার ৭০০ রিয়েকশন, ৬৫৩ কমেন্ট ও ১৭৪টি শেয়ার রয়েছে।
পোস্টটির কমেন্ট যাচাই করে দেখা যায়, বেশিরভাগ ব্যবহারকারী দাবিটিকে সত্য ভেবে কমেন্ট করেছেন।
আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
দাবিটির সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে দেশের প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমগুলোতে অনুসন্ধান চালানো হয়। তবে কোথাও আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে দেখা যায়, একই ছবি ব্যবহার করে একাধিক গণমাধ্যমে ‘দোষারোপের রাজনীতি থেকে বের হতে চাই’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কেমন দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল চাই’ শীর্ষক এক উন্নয়ন সংলাপে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা দোষারোপের রাজনীতি থেকে বের হতে চাই। সঠিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছি, সেই পথ ধরেই এগিয়ে যেতে চাই। হানাহানি ও রক্তপাত থাকতে পারে, রাজনৈতিক বিরোধও আদর্শিকভাবে থাকবেই। তবে আমাদের চিন্তার ঐক্য এই অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নকে ঘিরেই। উন্নয়নের সেই ঐক্যকে ধারণ করে আমরা একে-অন্যের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এগিয়ে যাব। এ অঞ্চলকে তার ন্যায্য হিস্যা ফিরিয়ে আনতে আমরা চেষ্টা করব।’
বিষয়টি নিশ্চিত হতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ওই কর্মসূচির ভিডিও বক্তব্যও যাচাই করা হয়। বেসরকারি টেলিভি৭ন চ্যানেল এটিএন নিউজের ফেসবুক পেজে ‘রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিরোধিতা থাকবেই, উন্নয়নের ঐক্যকে ধারণ করেই এগিয়ে যাবো’ ক্যাপশনে একটি ভিডিও পাওয়া যায়।
সেখানে আইনমন্ত্রীর পুরো বক্তব্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনি কোথাও ভাইরাল ফটোকার্ডে উল্লেখিত জামায়াত-বিএনপি ‘দুই পিতার এক পুত্র’ এমন মন্তব্য করেননি।
প্রতিবেদন ও ভিডিওতে পাওয়া আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বক্তব্যের কোথাও বিএনপি-জামায়াতকে জড়িয়ে প্রচারিত ফটোকার্ডের দাবিটির সঙ্গে পুরোপুরি মিল পাওয়া যায়নি। তবে উভয় ফটোকার্ডে ‘রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিরোধিতা থাকবেই’ অংশটির মিল রয়েছে।
এ ছাড়া প্রচারিত দাবিতে ছড়িয়ে পড়া রক্ষীবাহিনী নামের পেজে শেয়ার করা ফটোকার্ডে কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র, তারিখ বা বক্তব্যের প্রেক্ষাপটও উল্লেখ করা হয়নি। আরও অনুসন্ধানে ‘Gupto Television’ নামের একটি স্যাটায়ার পেজে ২৫ এপ্রিল দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে প্রথম প্রচারিত দাবিতে পোস্ট করতে দেখা যায়। পরবর্তীতে সেখান থেকে বিভিন্ন পেজ ও অ্যাকাউন্টে তা ছড়িয়ে পড়ে।
একই দাবিতে জাতীয় দৈনিক কালবেলার লোগো ও ফটোকার্ডের ডিজাইন সংবলিত ফটোকার্ডও ছড়াতে দেখা গেছে। তবে কালবেলার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটে এমন কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে কালবেলার ফেসবুক পেজে ‘দোষারোপের রাজনীতি থেকে বের হওয়ার আহ্বান আইনমন্ত্রীর’ শিরোনামে ২৫ এপ্রিলের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে ‘রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিরোধিতা থাকবেই’ কথাটার উল্লেখ থাকলেও কোথাও ভাইরাল ফটোকার্ডে উল্লেখিত জামায়াত-বিএনপি ‘দুই পিতার এক পুত্র’ এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সিদ্ধান্ত
জামায়াত-বিএনপি নিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের বক্তব্য বিকৃত করে ছড়ানো হয়েছে। প্রচারিত ফটোকার্ডের একটি স্যাটায়ার পেজ থেকে ছড়ানো এবং অপরটি কালবেলার ফটোকার্ড সম্পাদিত করে প্রচার করা হয়েছে।