ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম খানকে জুতাপেটা করা হয়েছে, এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
এই দাবিতে ফেসবুকে পোস্ট আছে এখানে (আর্কাইভ ), এখানে (আর্কাইভ)।
‘আবিদকে এমনে জুতাপেটা করলো কেন?’ ক্যাপশনে ‘Hasnat Abdullah’ নামের একটি গ্রুপে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বেলা ৩টার দিকে ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়। বিকেল ৪টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত ভিডিওটি প্রায় ২৬ হাজার বার দেখা হয়েছে। এতে ৬৮৯টি রিঅ্যাকশন, ৪৪টি কমেন্ট এবং ১৩৩টি শেয়ার রয়েছে।
আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
ভিডিওটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, কালো পাঞ্জাবি পরা এক ব্যক্তিকে দুজন মিলে জুতা দিয়ে আঘাত করছে এবং কিলঘুষি মারছে। পরে ওই ব্যক্তিকে পাল্টা প্রতিরোধ করতেও দেখা যায়। ঘটনাস্থলটি মেট্রোরেল স্টেশনের ভেতরের মতো মনে হলেও এটি কোন স্টেশন, কখন ঘটেছে বা কারা এতে জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, একজন নারী ও একজন পুরুষ পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, মারধরের শিকার ব্যক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান।
ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির শারীরিক গঠন ও চেহারার সঙ্গে আবিদুল ইসলাম খানের চেহারার অমিল রয়েছে। উচ্চতাও আবিদের চেয়ে কম বলে মনে হয়। এ ছাড়া এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো অফিশিয়াল বিবৃতি, দলীয় প্রতিক্রিয়া বা বিশ্বাসযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনও পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে ‘দৈনিক সংবাদ বাংলাদেশ’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ২৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পাওয়া যায়, যা ১৫ এপ্রিল বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে শেয়ার করা হয়। ভিডিওটি ‘নারীকে ধাক্কা দেওয়ায় মেট্রোরেলের প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক মারামারি’ ক্যাপশনে পোস্ট করা হয়। একই ভিডিও ‘Daily Niropekkho’ নামের আরেকটি পেজেও পাওয়া যায়, ১৬ এপ্রিল সকাল ১০টায় পোস্ট করা ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হয়—‘মেট্রোরেলে গার্লফ্রেন্ডকে ধাক্কা দেওয়া নিয়ে তুমুল মারামারি’। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উভয় পেজে প্রচারিত এই ভিডিওটি বর্তমানে ভাইরাল হওয়া ভিডিওর সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।
ভুক্তভোগী ব্যক্তিকে ছাত্রদল নেতা আবিদ বলে দাবি করা সম্ভাব্য প্রথম ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে ১৭ এপ্রিল বেলা ৩টার দিকে।
সিদ্ধান্ত
ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ধারণা করা যায়, ভুক্তভোগী ভিন্ন ব্যক্তিকে পরে ছাত্রদল নেতা আবিদ দাবিতে প্রচার করা হয়েছে। আর আবিদের সঙ্গে এই ঘটনার সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।