হোম > ফ্যাক্টচেক > দেশ

বিবস্ত্র মরদেহ সিঁড়ি দিয়ে টেনেহিঁচড়ে তোলার ভিডিওটি ভারতের

ফ্যাক্টচেক ডেস্ক  

মরদেহ টেনে হিঁচড়ে নেওয়ার ভিডিও। ছবি: স্ক্রিনশট

বিবস্ত্র অবস্থায় এক ব্যক্তিকে দুই পা ধরে টেনেহিঁচড়ে সিঁড়ি দিয়ে ওপরের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন দুই ব্যক্তি—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে এটি বাংলাদেশের ঘটনা।

এই দাবিতে কয়েকটি পোস্ট আছে এখানে , এখানে, এখানে এবং এখানে

গতকাল ২০ জুলাই ‘নোয়াখালী জেলা যুবলীগ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে আলোচিত দাবিতে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। ২১ জুলাই বেলা ১১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত ভিডিওটি প্রায় ৯ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে। এ ছাড়া পোস্টটিতে ১ হাজার ৯০০ রিয়েকশন, ৪৮০ কমেন্ট এবং ৩ হাজার ৫০০ শেয়ার রয়েছে।

শেয়ার করা ভিডিওর কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারী ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ঘটনা মনে করে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

পোস্টের কমেন্ট। ছবি: স্ক্রিনশট

আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান

ভাইরাল ১১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, দুজন ব্যক্তি একটি ভবনের সিঁড়ি দিয়ে এক বিবস্ত্র ব্যক্তিকে দুই পা ধরে টেনে-হিঁচড়ে ওপরের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। ওই কক্ষে আরও অনেক লোকজন দেখা যাচ্ছে।

ভিডিওটির একাধিক কি-ফ্রেম নিয়ে অনুসন্ধানে গত বছরের আগস্টে প্রকাশিত ভারতীয় গণমাধ্যম ‘উড়িষ্যা পোস্ট’-এর একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভিডিওটি মূলত ভারতের বিহার রাজ্যের বেত্তিয়া এলাকার। মূলত হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য আনা এক অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ স্ট্রেচার না নিয়ে ওইভাবে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন কর্মীরা। এ নিয়ে ওই সময় ভারতে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এনডিটিভি’-তে ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট প্রকাশিত আরও একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত বছরের ১২ আগস্ট বিহারের বেত্তিয়া শহরের সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পুলিশ উদ্ধার করা একটি মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। তখন স্ট্রেচার থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালের কর্মীরা অমানবিক উপায়ে মরদেহটি টেনে নিয়ে যান।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর জেলা প্রশাসন তদন্তের নির্দেশ দেয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকা ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক মর্গ সহকারীকে বরখাস্ত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।

ভারতীয় গণমাধ্যম প্রকাশিত প্রতিবেদন। ছবি: স্ক্রিনশট

আরও কিছু ভারতীয় গণমাধ্যম ( , ) থেকেও একই তথ্য পাওয়া যায়।

এ ছাড়া ভাইরাল ভিডিওটি ছড়ানো ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্টগুলো পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সেগুলো থেকে নিয়মিত আওয়ামী লীগের পক্ষে এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বিপক্ষে প্রচার চালানো হয়।

সিদ্ধান্ত

ভারতের বিহারের বেত্তিয়ায় হাসপাতালের কর্মীদের মরদেহ টেনে নেওয়ার পুরোনো ভিডিওকে বাংলাদেশের ঘটনা দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম বা যেকোনো মাধ্যমে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য বিভ্রান্তিকর মনে হলে তার স্ক্রিনশট বা লিংক কিংবা সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আমাদের ই-মেইল করুন। আমাদের ই-মেইল ঠিকানা factcheck@ajkerpatrika.com

ইলিশের দাম বৃদ্ধি নিয়ে কৃষিমন্ত্রীর নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া

মন্দিরের টাকা নিয়ে ভারতে পুরোহিতদের সংঘর্ষের ভিডিওকে পলাশবাড়ীর মন্দিরে হামলা বলে প্রচার

জুলাই আন্দোলনের ভিডিওকে সম্প্রতি বিএনপি-আ.লীগ সংঘর্ষ দাবিতে প্রচার

পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনে নিহতের দাবি ও শিক্ষামন্ত্রীর নামে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলোর সত্যতা কতটুকু

তুরস্ক ও পাকিস্তানের ভিডিও ছড়িয়ে চট্টগ্রামে বন্যার ভয়াবহতা বলে দাবি

পাকিস্তান থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরের দৃশ্য দিয়ে যেভাবে ছড়ানো হলো চট্টগ্রামের বন্যা আতঙ্ক

গলাপানিতে দুই শিশুসন্তানকে বাবার আগলে রাখার ভিডিওটি পুরোনো

‘জাহেলি যুগকেও হার মানায়’ ক্যাপশনে ছড়ানো ভিডিওটি আসামের

২ লাখ ৪২ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া—দাবিটি সঠিক নয়

পশ্চিমবঙ্গে কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে বাংলাদেশের বলে প্রচার