রাজশাহীতে এক ব্যক্তিকে পুলিশের গাড়িতে তোলার পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
এই দাবিতে পোস্ট আছে এখানে, এখানে।
‘Natural Lifestyle’ নামের একটি পেজ থেকে ১২ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টা ১৯ মিনিটে সম্ভাব্য প্রথম পোস্টটি করা হয়। ১২ সেকেন্ডের ভিডিওটি ১৪ এপ্রিল দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার বার দেখা হয়েছে। ভিডিওটিতে প্রায় ১ হাজার ৮০০ রিয়েকশন, ৩১৩ শেয়ার এবং ৫৯টি কমেন্ট রয়েছে।
আজকের প্রত্রিকার অনুসন্ধান
ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একাধিক কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে বৈশাখী টিভি-এর ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ১২ এপ্রিল প্রকাশিত ওই ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘কাদামাটি মেখে ডাকাত ধরে প্রশংসায় ভাসছেন পুলিশ।’ আলোচিত ভিডিওর সঙ্গে এই ভিডিওর মিল পাওয়া যায়।
একই ভিডিও ও তথ্য সংবাদ মাধ্যম ‘নাগরিক প্রতিদিন’ -এর ইউটিউব চ্যানেলেও পাওয়া গেছে।
বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘পলাতক ডাকাত ধরতে কর্দমাক্ত জমিতে পুলিশের ধাওয়া, অতঃপর...’ শিরোনামে ১১ এপ্রিল একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে আরটিভি। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে পলাতক এক ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১০ এপ্রিল দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার বুধন্তী ইউনিয়নের কেনা গ্রামে ইসলামপুর পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল অভিযান চালায়। প্রায় আধা কিলোমিটার ধাওয়া করার পর বিলের কাদামাটির জমিতে লুকিয়ে থাকা মুর্শিদ মোল্লা ওরফে মোরশেদকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, মুর্শিদ মোল্লা বিজয়নগর থানার একটি ডাকাতি মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি এবং দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। তিনি কেনা গ্রামের চেনু মোল্লার ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও ডাকাতির প্রস্তুতির তিনটি মামলা রয়েছে।
অভিযানে অংশ নেওয়া এসআই আলী রেজা মামুন জানান, পালানোর সময় মুর্শিদ মোল্লা বিলের কাদামাটির জমিতে নেমে পড়েন। পুলিশ সদস্যরা তাঁকে ধাওয়া করে কর্দমাক্ত বিলে নিয়ে গেলে সেখানে ধস্তাধস্তি হয়। এতে পাঁচজন পুলিশ সদস্য কাদায় মাখামাখি হন।
সিদ্ধান্ত
রাজশাহীতে পুলিশের গাড়িতে তোলার পর একজনের মৃত্যু হয়েছে—দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি বিভ্রান্তিকর। ভিডিওটি প্রকৃতপক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের অভিযানে এক ডাকাতকে ধাওয়া করে আটক করার দৃশ্য।