সাম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, ইরান দুবাইয়ের একটি তেল শোধনাগারে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভিডিওটি দ্রুত নেটিজেনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
‘IRGC NEWS’ নামের এক্স অ্যাকাউন্টে ৬মে সকাল ৩৯ মিনিটে শেয়ার করা ভিডিওটি ৭ মে বিকাল ৪টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ৩৮ হাজার ৯০০ বার দেখা হয়েছে। পোস্টটিতে ১ হাজার ১০০ রিয়েকশন ও ৩১ কমেন্ট রয়েছে। এ ছাড়া পোস্টটি ২৭৬ বার রিপোস্ট করা হয়েছে।
আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ে প্রথমেই সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক কোনো গণমাধ্যমে দুবাইয়ে এমন হামলার তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে ভিডিওটির কিছু দৃশ্যের রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে গত ৩০ এপ্রিল ‘Kyiv Post’-এর শেয়ার করা একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ওই ভিডিও থেকে জানা যায়, এটি রাশিয়ার পার্ম অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর একটি তেল শোধনাগারে লাগা আগুনের দৃশ্য।
বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি নিউজের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেন বর্তমানে ড্রোন হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতকে লক্ষ্যবস্তু করছে, যার ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি পার্ম অঞ্চলের একটি বড় তেল শোধনাগারে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার ফলে স্থাপনাটিতে বিশাল অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং আকাশ ঘন ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
ইউক্রেনের দাবি অনুযায়ী, তাঁদের ড্রোন হামলার লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ তেল শোধনাগার ‘লুক অয়েল’। এই শোধনাগারটির বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১৩ মিলিয়ন টন। রাশিয়ার অর্থনীতি ও যুদ্ধ পরিচালনার প্রধান চালিকাশক্তি এই জ্বালানি খাতকে পঙ্গু করে দিতেই তারা কৌশলগতভাবে এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানছে। অন্যদিকে, রুশ কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতি বা পরিস্থিতির বিস্তারিত প্রকাশ না করে বিষয়টিকে কেবল ‘শিল্প স্থাপনায় হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
অর্থাৎ, রাশিয়ার এই ঘটনার ভিডিওকেই দুবাইয়ে ইরানি হামলার দাবি করে প্রচার করা হচ্ছে।
সিদ্ধান্ত
দুবাইয়ের তেল শোধনাগারে ইরানি হামলার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি প্রকৃতপক্ষে রাশিয়ার পার্ম অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার ফলে সৃষ্ট আগুনের ঘটনা।