মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়েছে আরেকটি লঘুচাপ। লঘুচাপটি আরও শক্তিশালী হলে সারা দেশে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে। তবে মৌসুমির প্রভাবে আজ বৃহস্পতিবার সারা দেশে বৃষ্টিসহ ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া লঘুচাপের কারণে সাগর উত্তাল থাকায় দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে হবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর ওডিশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি ঘনীভূত হতে পারে। এ ছাড়া মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে।
আজ সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে এ সব অঞ্চলের ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে হবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, আজ রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আজ সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবদুল হামিদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, বঙ্গোপসাগরে অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। জুলাই মাসের প্রথমে সৃষ্টি লঘুচাপটি শক্তিশালী হয়ে নিম্নচাপের পরিণত হয়। এই নিম্নচাপের সঙ্গে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের ৮ বিভাগেই ভারী বৃষ্টি হয়। তবে চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়ে সৃষ্ট হয় বন্যা ও পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধস। তবে এবারের লঘুচাপটি অতটা শক্তিশালী না-ও হতে পারে। এর প্রভাবে ভারী বৃষ্টি হয়তো হবে না। তবে সারা দেশেই কম-বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।