হোম > পরিবেশ

সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর ঢাকার বাতাস, সুস্থ থাকতে যা করতে পারেন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ফাইল ছবি

সকালে যখন নগরজীবন কর্মমুখর হতে শুরু করে সেই সময়টায় দেখা যায়, রাজধানীতে দূষণের মাত্রা বেড়েই চলেছে। আজ শনিবার (৯ মে) সকালে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের বায়ুমানের তালিকায় এ চিত্র দেখা যায়।

সংস্থাটির সকাল ৯টা থেকে ১০টা সময়সীমার রেকর্ডে দেখা যায়, আজ ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স স্কোর ১৫৫, যা সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর বাতাসের নির্দেশক। আর তালিকায় ঢাকার অবস্থান চতুর্থ।

রিয়েল-টাইম একিউআই স্টেশন র‍্যাংকিংয়ে দেখা যায়, ঢাকার কিছু জায়গায় দূষণের মাত্রা সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর থেকে সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় আছে। এর মধ্যে পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ি এলাকার বাতাস সবচেয়ে দূষিত অবস্থায় আছে। এলাকাটির আইকিউএয়ার স্কোর ১৭২, যা সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর বাতাসের নির্দেশক।

র‍্যাংকিং তালিকায় আরও যেসব এলাকা রয়েছে— ধানমন্ডি, বারিধারা পার্ক রোড, গুলশান লেক পার্ক, উত্তর বাড্ডা, আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস), গুলশানের বেজ এজওয়াটার আউটডোর, দক্ষিণ পল্লবী, গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও গোড়ান।

ঢাকার নিম্নমানের বাতাসের প্রধান কারণ হলো পিএম ২.৫ বা সূক্ষ্ম কণা। এই অতিক্ষুদ্র কণাগুলো, যাদের ব্যাস ২.৫ মাইক্রোমিটারের চেয়েও কম, ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে রক্তপ্রবাহে মিশে যেতে পারে। এর ফলে হাঁপানি (অ্যাজমা) বৃদ্ধি, ব্রঙ্কাইটিস এবং হৃদ্‌রোগের মতো শ্বাসযন্ত্র ও হৃদ্‌যন্ত্রের গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

শীতকালীন আবহাওয়ার ধরন, যানবাহন ও শিল্প থেকে অনিয়ন্ত্রিত নির্গমন, চলমান নির্মাণকাজ থেকে সৃষ্ট ধুলো এবং আশপাশের ইটভাটাগুলো এই দূষণ সংকটের জন্য দায়ী।

আইকিউএয়ারের তালিকায় শীর্ষ পাঁচে থাকা বিশ্বের অন্য শহরগুলো হলো— পাকিস্তানের লাহোর (১৭২, সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর), ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা (১৭০, সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর), ভারতের দিল্লি (১৫৬, সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর) এবং উগান্ডার কামপালা (১৫২, সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর)।

বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক ৫০-এর নিচে থাকলে বিশুদ্ধ বাতাস ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে তা সহনীয়। ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে হলে সতর্কতামূলক বা সংবেদনশীল মানুষের (শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি) জন্য অস্বাস্থ্যকর। ১৫১ থেকে ২০০ হলে সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং সূচক ২০১ থেকে ৩০০ হলে বাতাসকে খুব অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। আর সূচক ৩০০ ছাড়ালে সেই বাতাস দুর্যোগপূর্ণ।

বায়ুদূষণজনিত স্বাস্থ্য সমস্যায় প্রতিবছর বহু মানুষ মারা যায়। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বায়ুদূষণ প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ৫২ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ বলে ২০২৩ সালের নভেম্বরে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে (বিএমজে) প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় তুলে ধরা হয়।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, গৃহস্থালি ও পারিপার্শ্বিক বায়ুদূষণের সম্মিলিত প্রভাবে বছরে ৬৭ লাখ মানুষ মারা যায়।

দীর্ঘদিন ঢাকার বাতাস অতিমাত্রায় দূষিত হওয়ায় বাইরে বের হলে সবাইকে মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া সংবেদনশীল ব্যক্তিদের অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার অনুরোধও করা হয়েছে।

পাশাপাশি ইটভাটা, শিল্পকারখানার মালিক এবং সাধারণ মানুষকে কঠিন বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ রাখা, নির্মাণস্থলে ছাউনি ও বেষ্টনী স্থাপন করা, নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা, নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের সময় ট্রাক বা লরি ঢেকে নেওয়া, নির্মাণস্থলের আশপাশে দিনে অন্তত দুবার পানি ছিটানো এবং পুরোনো ও ধোঁয়া তৈরি করা যানবাহন রাস্তায় বের না করতে বলা হয়েছে।

বাতাসের এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে করণীয়

অত্যন্ত সংবেদনশীল গোষ্ঠী: শিশু, বয়স্ক, হৃদ্‌রোগ বা শ্বাসকষ্টের রোগীরা সব ধরনের ঘরের বাইরে না যাওয়াই ভালো।

সাধারণ সুস্থ ব্যক্তি: তাদের উচিত বাইরে কাটানো সময় সীমিত করা এবং শারীরিক পরিশ্রমের কাজ এড়িয়ে চলা।

যদি বাইরে বের হতে হয়, তবে অবশ্যই দূষণ রোধে কার্যকর মাস্ক ব্যবহার করুন।

ঘরের ভেতরের বাতাস পরিষ্কার রাখতে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করুন এবং দূষিত বাতাস প্রবেশ ঠেকাতে জানালা ও দরজা বন্ধ রাখুন।

দেশের ৪ অঞ্চলে কালবৈশাখী, ঢাকায় বজ্রবৃষ্টির আভাস

দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহের কারণ কী, বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কোন কোন দেশ

জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার আহ্বান তরুণ জলবায়ু কর্মীদের

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বাড়বে গরম

প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে, তবুও দূষণে শীর্ষে ঢাকা

ঢাকাসহ ১৮ জেলায় ৬০ কিমি বেগে বয়ে যেতে পারে কালবৈশাখী, কমবে তাপমাত্রা

পাঁচ হাজার অবৈধ ইটভাটা বন্ধে প্রশাসকদের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের

অস্বাস্থ্যকর ঢাকার বাতাস, সুস্থ থাকতে যা করবেন

আজও ৫ অঞ্চলে কালবৈশাখীর আভাস

অতিবৃষ্টির পর তাপপ্রবাহ ও ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা, মে মাসের পূর্বাভাসে আরও যা যা আছে