ঢাকা: অনেক দিন ধরেই টিভি নাটকে অভিনয় করেন তৌসিফ মাহবুব। বিশেষ ভক্তশ্রেণিও আছে। ঈদে বরাবরই মোশাররফ করিম-চঞ্চল চৌধুরী বা অপূর্ব-নিশোদের তারকাদ্যুতির ছায়ায় ঢাকা পড়ে যান। এবারের ঈদে টিভি চ্যানেলগুলো তাঁকে নিয়েই বাজি ধরেছে। তবে কি পালাবদলের শুরু এই ঈদ থেকেই?
নিয়মিত শুটিং করছেন?
তৌসিফ মাহবুব: সপ্তাহখানেক আগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে দাদি মারা গেছেন। পরিবারের আরও কয়েকজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলাম। শারীরিকভাবে এখনো কিছুটা দুর্বলতা আছে। করোনা থেকে নেগেটিভ হয়েই শুটিংয়ে ফিরেছি। বিধিনিষেধ মেনেই চলছিল জীবন। এর মধ্যে নিয়মিত নাটকের শুটিং করেছি। শুটিং চলছে এখনো। ঈদ অব্দি চলবে।
কোথায় যেন দেখলাম এবারের ঈদে সর্বোচ্চ আমার নাটক প্রচারিত হচ্ছে। সর্বোচ্চর ক্রেডিট নেওয়ার তেমন কিছু নেই। হয়তো আমার সিনিয়র অনেকে শুটিং করতে পারেননি বলে আমার সংখ্যাটা বেড়েছে। আমার প্রায় সব নাটক প্রচারিত হচ্ছে। ৭ তারিখ লকডাউন পড়লেও আমি খুব সীমিতভাবে সাবধানে ঘরের মধ্যে অল্প কাস্ট ক্রু নিয়ে সাত থেকে আটটা কাজ করেছি। তার আগের মাসে ১৫টার মতো কাজ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে স্বাভাবিকভাবে আমার ২০টার কাছাকাছি নাটক প্রচারিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত ঈদ থেকে শুরু করে এ বছরের ভ্যালেন্টাইন পর্যন্ত নানা কারণে অনেকগুলো প্রত্যাশিত কাজ যায়নি।
অনেক সময় আমার কাজগুলোর বাজেট বেশি ছিল, যা খারাপ অবস্থার কারণে বিক্রি হয়নি হয়তো। সব মিলিয়ে ৪৫টি নাটক জমে গেছে। আর এখনো তো ঈদের বাকি আছে, টানা শুটিং চললে আশা করা যায় এটা ৫০ হতে পারে। আমি একদম হলফ করেই বলতে পারি না যে এতগুলো প্রচারিত হবে। কারণ প্রচারের ক্ষমতা তো আমার হাতে নেই। আমার হাতে যে হিসাব আছে, তাতে ৫০টা প্রচার হওয়ার কথা।
অনেকে হয়তো আমার নয়, আরেকজনের কাজ নিয়মিত দেখতেন। তাঁর চোখে যদি একটা কাজ পড়ে আশা করি, তিনি আরেকটি কাজ দেখতে চাইবেন। আমি একজন অভিনেতা। আমার তো একটা টার্গেট আছে আমি কী করব। আজ কী করব। পাঁচ বছর পর কোথায় দেখতে চাই। কোন চরিত্রগুলো করলে আমার ভবিষ্যৎ ভালো হবে। আমার একটা টার্গেট ছিল এবারের ঈদে অনেক ভ্যারিয়েশনের কাজ করব। আমি বলব যে এতগুলো কাজ করেছি, এর মধ্যে একটার সঙ্গে আরেকটার মিল পাবেন না। হ্যাঁ এটা হতে পারে আমি হয়তো পাঁচটা রোমান্টিক গল্পে কাজ করেছি। ভিন্নতা খুঁজতে গিয়ে অনেকে রোমান্টিক নাটককে ভালো অভিনয় হিসেবে ধরে না। কিন্তু একটা রোমান্টিক গল্পকে ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলাও বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। আমাকে যাঁরা পছন্দ করেন বা আমার নাটক দেখতে চান, তাঁদের বলব যে অনেক ধরনের অপশন আছে।
সিন্ডিকেটের কারণে এতদিন ঈদের নাটকে তুলনামূলক কম সুযোগ পেয়েছেন। অনেকে এমন কথাও বলছেন…
আমাদের সবকিছুতে কান দিতে হয় না। হয়তো অনেক সময় আমার কাজটা আটকে গেছে, কিন্তু সেখানে আমার খুব বেশি দুঃখবোধ নেই। সাময়িকভাবে হয়তো খারাপ লেগেছে যে প্রত্যাশিত একটা কাজ এই সময়ে দর্শকের সামনে নিয়ে আসতে পারলে ভালো হতো। তখন দেখি শেষ মুহূর্তে প্রচার হয় না। সেক্ষেত্রে একটা টার্গেটও তৈরি হয় যে ঠিক আছে আজ হয়নি, কাল হবে। এমন ভালো কিছু করব, যাতে প্রচার করতে বাধ্য হয়। কোনো উৎসবে যেমন মানুষ কেনাকাটা করে, তেমনি উৎসবের জন্য নির্মাণ করা কাজ নিয়ে একটা অন্যরকম উৎসাহ থাকে। ধরেন ঈদের সময়টায় কাজগুলো দেখবে। নিজের এতগুলো কাজ দেখার সুযোগ হবে। আমি নিজেকে গড়ার চেষ্টা করছি। এই সময়ে এত কাজ করা আমার জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। কে জানে ঈদের আগের দিনও কোনো কাজ আটকে যেতে পারে।
২০১৯ সালে কোরবানির ঈদেও ৩৬টা নাটক প্রচারিত হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা যে এবারই প্রথম এটা কিন্তু বলা যায় না। গত বছর রোজার ঈদে তো তেমন কারও নাটক যায়নি করোনার মধ্যে। কোরবানির ঈদে আমার ১৯টা নাটক আটকে গেছে, যেটা আমার জন্য বেদনায়দায়ক ছিল। কারণ একটা–দুইটা আটকে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ১৯টা নাটক আটকে যাওয়া তো আসলেই কঠিন কিছু।
আমি হয়তো প্রথম সারির অভিনেতা না। আমি কোন সারির সেই বিবেচনা আমি করতেও পারি না। কিন্তু যদি অভিনেত্রী হিসেবে যাঁদের প্রথম সারির বলব এখন ব্যস্ততার দিক থেকে চাহিদার দিক থেকে, তাঁদের সঙ্গে যে একেবারেই আমাদের সুযোগ হয় না ব্যাপারটা এমন নয়। সব সময় কাজ হয়েছে, হচ্ছে। আসলে আমাদের নাটকে তো সীমিত সুযোগ। ৪০ মিনিটের নাটকে অনেক বেশি প্রমাণ করতে হয় নিজেকে। ওখানে সব সময় সবগুলো চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয় না। আমি অভিনয় ভালো করছি এটা বোঝাতে গেলে বলব, স্বার্থপরের মতো অনেক সময়ই এমন কিছু গল্প বেছে নিই, যেটা আমার ওপর কেন্দ্র করে। সেটা হয়তো সব সময় প্রথম সারির নায়িকারা করতে রাজি হবেন না। ওই ক্ষেত্রে যাঁরা নতুন আসছেন, তাঁদের সঙ্গে অনেক কাজ হয়েছে। তবে এবার সাফা কবির, তাসনিয়া ফারিণ, কেয়া পায়েল, সারিকা সাবরিনদের সঙ্গেই অধিকাংশ কাজ হয়েছে।
অনেক অনেক বলতে হবে। আমার কাছে তালিকাও আছে। কোন নাটকে কোন চরিত্র করেছি সব বলতে পারব। যেমন ‘উই আর ওয়েটার’ একটা গল্পের নাম। আমরা অনেক নাটকে অনেক হিরোকে ওয়েটারের কাজ করতে দেখেছি। সেটা হয়তো এক বা দুই সিকোয়েন্সর জন্য দেখানো হয় ওয়েটারের জীবন। এই গল্প পুরোটা ওয়েটারদের লাইফ নিয়ে। তারপর ‘নাবিক’ নামে একটা কাজ করলাম। নাবিক বলতে যা বোঝায়, শিপের ক্যাপ্টেন। শিপের একজনের লাইফ কেমন হতে পারে তা নিয়ে। রিকশাওয়ালা। এই চরিত্রগুলো সব সময় আমার করা হয়ে ওঠেনি। গেটআপের অনেক কাজ করেছি। দেখা গেল একটা সিম্পল ক্যারেক্টারের জন্যও নতুন কোনো লুক আনার জন্য কাজ করেছি। ‘হ্যালো লেডিস’ নামে একটা নাটক আছে। প্লেবয় নিয়ে। এমন গল্প আমরা দেখি সাধারণত। কিন্তু এই গল্পটা নেওয়া হয়েছে একটা ভাইরাল ইস্যু নিয়ে। অ্যাকশন সিনও আছে। অ্যাকশন সিনেমা টাইপ হয়ে গেছে। এমনভাবে বলে শেষ করতে পারবো না।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: মীর রাকিব হাসান