সাক্ষাৎকার

যুদ্ধটা আমাদের একা করতে হয়েছে: রেদওয়ান রনি

আজ ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির পাঁচ বছর পূর্তি। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে আছেন নির্মাতা রেদওয়ান রনি। পেশাগত কাজে তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। মোবাইল ফোনে কথা হলো তাঁর সঙ্গে। পাঁচ বছরে চরকির পথচলা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, বাংলাদেশে ওটিটির বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎসহ নানা বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এম এস রানা

কী লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল চরকি?

আমাদের দেশে শক্তিশালী ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ছিল না। আমাদের ট্যালেন্ট, আমাদের দর্শক, অথচ বড় অঙ্কের কারেন্সি নিয়ে যাচ্ছে বিদেশি প্ল্যাটফর্মগুলো। আমরা চেয়েছি এমন একটা প্ল্যাটফর্ম করতে, যেখানে সারা বিশ্বের বাঙালি দর্শক আমাদের কনটেন্ট দেখবে, আমাদের ট্যালেন্টরা কাজের সুযোগ পাবে, দেশে ফরেন কারেন্সি ঢুকবে। দ্বিতীয়ত, ওটিটি একটা সম্ভাবনাময় বিজনেস, এই প্ল্যাটফর্ম দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে। তৃতীয়ত, ফিউচার গ্লোবাল মার্কেটে বাংলা কনটেন্টের মূল ফোকাস হবে চরকি অর্থাৎ ঢাকা। আমাদের প্রচুর দর্শক আছে, মেধাবী নির্মাতা আছে। আমরা চেয়েছি নিজেদের মেধার ব্যবহার করে আমরাই কনটেন্ট বানাব এবং গ্লোবালি ডিস্ট্রিবিউট করব, সেই প্ল্যাটফর্মটি হবে চরকি।

পাঁচ বছরে কতটা সফলতা পেলেন?

অনেকটাই। এই পাঁচ বছরে অনেক ট্যালেন্ট পেয়েছি। ওটিটি থেকে মেধাবী অনেক নির্মাতা বেরিয়েছে, লেখক, অভিনেতা তৈরি হয়েছে। নুহাশ, তাওকীরদের মতো মেধাবীদের গ্লোবাল প্রেজেন্স এখন হাই। দর্শকের রুচির পরিবর্তন হয়েছে, আমাদের ভিজ্যুয়াল কোয়ালিটি ডেভেলপ করেছে। দ্বিতীয়ত, বিজনেস ইকোনমিতে ওটিটি এখন বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারছে। তৃতীয়ত, আমাদের নিজস্ব ওটিটি, নিজস্ব ভাষা তৈরি হয়েছে। আমরা আমাদের গল্প বলতে পারছি। যেমন ‘ষ’ সিরিজে আমাদের নিজস্ব প্রচলিত ভূতের গল্প বলেছি, দর্শক সেটা পছন্দ করেছে। চরকির কনটেন্ট এখন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে, বিশ্বের অনেক ফেস্টিভ্যালে যায়, সম্মানিত হয়।

কোনো প্রতিবন্ধকতা ছিল?

ছিল, এখনো আছে। সরকার বা কোনো ধরনের অথরিটির কাছ থেকে পর্যাপ্ত সাপোর্ট না পাওয়ায় যুদ্ধটা আমাদের একা করতে হয়েছে। দেশে এখনো ওটিটি সার্ভিস বলে কোনো টার্ম ক্রিয়েট হয়নি, নীতিমালা তৈরি হয়নি। করপোরেট ব্যবসার লাইসেন্স দিয়ে ওটিটি চালাতে হচ্ছে। অথচ, দর্শক ট্যাক্স, ভ্যাট দিচ্ছে। ওটিটির সব ধরনের রেভিনিউ সোর্স থেকে ১০% এসডিআর দিতে হচ্ছে। অথচ বিদেশি কারেন্সি রিসিভ করার জন্য দেশে এখনো পেপাল আনা যায়নি। থার্ড পার্টির পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে বিদেশি পেমেন্ট রিসিভ করতে হচ্ছে। ১৭৯টির বেশি দেশের ৩৬টির বেশি কারেন্সি দিয়ে চরকির কনটেন্টের পেমেন্ট হয়। সেই পেমেন্ট সরাসরি রিসিভ করতে না পারায় থার্ড পার্টির হাতে বড় অঙ্কের টাকা চলে যাচ্ছে। অথচ এ বিষয়ে সরকারি কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ১ কোটি টাকার একটা প্রজেক্ট বানাতে তার ব্যয় গিয়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ২৭ লাখে। এই পাঁচ বছরে আমরা কোনো অফিশিয়াল কল পাইনি যে আসেন আপনাদের কী সমস্যা, কী বেদনা শুনি, হেল্প করি, পলিসি নির্ধারণ করি।

চরকির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

অরিজিনাল কনটেন্ট আরও বাড়ানো। সামনে রিয়েলিটি শো, ডকুমেন্টারির মতো কনটেন্ট হবে। আমরা একটা সুপার অ্যাপ বানাচ্ছি। এর মাধ্যমে বাংলা কনটেন্টের যত ধরনের মাত্রা দেখি সব যুক্ত করা হবে। গেমিং অপশন, গান শোনা, মিউজিক ভিডিও, লাইভ টিভিসহ নানা কিছু থাকবে। আমরা বড় পর্দার জন্য সিনেমা বানাব, সেই সিনেমা চরকিতেও প্রকাশ পাবে।

দেশের বেশির ভাগ ওটিটি প্ল্যাটফর্ম দর্শকের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। এর কারণ কী?

ওটিটির জন্য দুটি বিষয়ে জানা থাকা জরুরি। এক. টেকনোলজি; দুই. কনটেন্ট বানানো। ওটিটি একটা স্ট্রিমিং বিজনেস। আমি কী স্ট্রিমিং করছি, কীভাবে করছি সেটা সঠিকভাবে বুঝতে না পারলে সমস্যা। একটা কনটেন্ট স্ট্রিমিং করতে কতটা ব্যান্ডউইডথ যাচ্ছে সেটাও বুঝতে হবে। অন্যদিকে, ওটিটি কনটেন্ট কিন্তু টিভি প্রোডাকশন না যে ২০ রকম অনুষ্ঠান বানিয়ে ছেড়ে দিলাম। দর্শক টাকা দিয়ে কনটেন্ট দেখবে, তাই দর্শকের চাহিদা ও পছন্দ বুঝে বানাতে হবে। আরেকটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ডিজিটাল মার্কেটিং; জেনে-বুঝে করতে না পারলে ধরা খেতে হয়।

ওটিটিকে কি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে?

অবশ্যই পারে। তবে লং টাইম পরিকল্পনা নিয়ে নামতে হবে। কমপক্ষে পাঁচ-সাত বছরের একটা পরিপূর্ণ পরিকল্পনা থাকতে হবে। কখন কী হবে, কোন কনটেন্ট আসবে, রেভিনিউ পলিসি কী হবে—সবকিছুর প্রপার পরিকল্পনা থাকতে হবে।

অনেকে বলেন নির্দিষ্ট গণ্ডির মানুষেরা চরকিতে কাজের সুযোগ পায়। অভিযোগটা কতখানি সত্য?

নিজেদের বলতে আসলে কতটা সার্কেল বোঝায়? চরকি বছরে ২০ থেকে ২৫টি কনটেন্ট বানায়। অথচ মার্কেটে টিভির ডিরেক্টর আছেন ৪০০-এর ওপরে, সিনেমার ডিরেক্টরও আছেন। ধরা যাক সব মিলিয়ে ৬০০ থেকে ৭০০ ডিরেক্টর আছেন। কিন্তু আমরা যদি ১০০ ডিরেক্টরকে নিয়েও কাজ করি, বাকি ৬০০ জনের অনেকেই অভিযোগ করতে পারেন। অথচ যাঁরা চরকিতে কাজ করেছেন, যেমন শিহাব শাহীন, নুহাশ আহমেদ, তাওকীর ইসলাম, শঙ্খ দাশগুপ্তসহ অনেকের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো যোগাযোগই ছিল না। আমরা উপযোগী কনটেন্টের জন্য মেধাবী নির্মাতার সঙ্গে কাজ করতে চাই।

চরকির কনটেন্ট কোয়ালিটি কীভাবে মেনটেইন করা হয়?

আমরা ইন্টারন্যাশনাল পিচিং ফরমেট ফলো করি। গল্প শুনেই বা কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জেরে কনটেন্ট কনফার্ম করি না। কয়েকটা ধাপে আমরা একটি কনটেন্ট কনফার্ম করি। ফাইনাল পিচিংয়ে চরকির কমিটি একটি কনটেন্টকে গ্রিন লাইটিং করে। এ ক্ষেত্রে আমরা বিবেচনায় রাখি সঠিক টাইম, সঠিক ক্রিয়েটিভ এবং সঠিক বাজেট। এটা ঠিক হলে শুরু হয় মূল যুদ্ধ। সবার অংশগ্রহণে স্ক্রিপ্ট রিডিং সেশন হয়, এরপর লুক টেস্ট, তারপর কস্টিউম। এরপর হয় প্রিপ্রোডাকশন মিটিং। শুটিংয়ের আগে ক্রিয়েটিভ টিম পুরো বিষয়টা কনফার্ম করে। শুটিংয়ের সময় এক্সিকিউটিভ টিম, ক্রিয়েটিভ প্রডিউসাররা যুক্ত হন। সর্বোচ্চ ভালোর জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ কতটুকু ফুটেজ নামানো যাবে সেটাও নির্ধারণ করে দিই আমরা। এরপর পোস্ট প্রোডাকশনে আমাদের একজন সুপারভাইজার কাজ করেন। এভাবেই প্রতিটি ধাপ নিশ্চিত করে একটা কনটেন্ট তৈরি হয়। তবে কখনো কখনো নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে কিছুটা কম্প্রোমাইজও করতে হয়।

একজন সাবস্ক্রাইবার যে পরিমাণ পেমেন্ট করেন, সেই তুলনায় পর্যাপ্ত কনটেন্ট দিতে পারছে ওটিটিগুলো?

আমরা তো বছরে ২০ থেকে ২২টি কনটেন্ট দিই। ইচ্ছা আছে কনটেন্টের পরিমাণ আরও বাড়ানোর। আগামী বছর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেব।

দেশে ওটিটির সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে কী করা প্রয়োজন?

সাপোর্ট লাগবে সবার। সরকারি সহযোগিতা লাগবে। দর্শককে রেসপন্সেবল হতে হবে, এত অর্থ আর শ্রম দিয়ে একটি কনটেন্ট বানানোর পর সেটা পাইরেসি করে দেখলে হতাশ হতে হয়। অনেকেই কনটেন্ট রিলিজের পরপরই অধৈর্য হয়ে রিভিউ দিতে শুরু করেন। রিভিউ অবশ্যই হবে, তবে সঠিক সময়ে, জেনে-বুঝে করা উচিত। একটা পক্ষপাতদুষ্ট, মন্দ রিভিউ অনেকগুলো মানুষের স্বপ্ন আর শ্রমকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে।

নির্মাতা হিসেবেও আপনি জনপ্রিয়। দীর্ঘ বিরতির পর সম্প্রতি আপনার পরিচালিত ‘দম’ সিনেমা মুক্তি পেল। পেশাগত দায়িত্বের চাপে কি নির্মাতা রেদওয়ান রনি হারিয়ে যাচ্ছেন?

সেই সমস্যা তো হচ্ছেই। আমার তো ইচ্ছা করে নিয়মিত কাজ করতে। সেই লক্ষ্যে চেষ্টা করছিলাম নিজের টিম বানানোর। সেটা পেরেছি। টিমটা ভালো হয়েছে। পরিকল্পনা করছি, ৩ বছরে দু্টি সিনেমা বানানোর। এরপর প্রতি বছরে একটি।

ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে বলবেন?

প্রেম-টেম করছি না। তবে পরিবার চাপ দিচ্ছে বিয়ের জন্য। কাউকে ভালো লাগলে, পরিবারের পছন্দমতোই হয়তো সংসারজীবন শুরু করব।

ফুটবল বিশ্বকাপের আবহে নাটক ‘ফুটবল হট্টগোল’

যৌথ পরিবারের গল্পে নতুন ধারাবাহিক

মঞ্চনাটক অনেক পরিশ্রমের কাজ

আমি যা চেয়েছি তাই হতে পেরেছি: আ খ ম হাসান

মা হচ্ছেন অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ, জানালেন দ্বিতীয় বিয়ের খবর

প্রথমবার বিচারকের আসনে মোশাররফ করিম

শততম প্রদর্শনীতে থিয়েটারের ‘নিখাই’

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার উন্মাদনা নিয়ে আইস্ক্রিনে আসছে ‘ব্রাজেন্টিনা ক্লাব’

কেয়া পায়েলের প্রেমের গুঞ্জন

প্রেম করছেন নাজনীন নীহা