সাক্ষাৎকার

মঞ্চনাটক অনেক পরিশ্রমের কাজ

ঢাকা থিয়েটারের ‘রঙমহাল’ নাটক দিয়ে প্রথমবার মঞ্চ নির্দেশক হিসেবে নাম লিখিয়েছেন ফারুক আহমেদ। আজ রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় সন্ধ্যা ৭টায় প্রদর্শিত হবে রঙমহাল নাটকের ষষ্ঠ প্রদর্শনী। প্রথম নির্দেশিত নাটক ও প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে ফারুক আহমেদের সঙ্গে কথা বলেছেন শিহাব আহমেদ

রঙমহাল নাটকটি নিয়ে জানতে চাই।

ঢাকা থিয়েটারের ৫৪তম প্রযোজনা রঙমহাল। নাটকটি লিখেছেন রুবাইয়াৎ আহমেদ। এটা ঢাকা থিয়েটারে আমার প্রথম নির্দেশিত নাটক। নাট্যকারের ভাষায় এটি রূপ এবং অরূপের আখ্যান। ফোক আঙ্গিকে নাটকটি নির্মাণের চেষ্টা করেছি। দুজন অন্ধ মানুষ, যারা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী, তাদের নিয়ে গল্পের শুরু। একসময় তারা এক সাধুর কাছে যায় এবং তার কল্যাণে চোখে দেখার সুযোগ পায়, কিন্তু প্রভাব পড়ে তাদের সম্পর্কে।

এরপর ঘটতে থাকে নানা ঘটনা। ইতিমধ্যে পাঁচটা শো হয়েছে। যাঁরা দেখেছেন তাঁদের কাছ থেকে ভালো প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই শ্রদ্ধেয় নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু ভাইয়ের কাছে, তিনি আমাকে নির্দেশনার সুযোগটি দিয়েছেন।

প্রথম নির্দেশনার জন্য রঙমহাল বেছে নেওয়ার কারণ কী?

আগে থেকে চিন্তা করিনি এই নাটক দিয়েই নির্দেশনা শুরু করব। নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু ভাই যখন নাটক নির্দেশনা দেওয়ার কথা বললেন, তখন রুবাইয়াৎ আহমেদকে একটা চিত্রনাট্য দেওয়ার জন্য বলি। নাটকটি পড়ে দেখলাম নারীর মূল্যায়নের বিষয়টি উঠে এসেছে। আমাদের সমাজে নারীর মূল্যায়ন কম। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা অবহেলিত। কিন্তু এই নাটকে দেখানো হয়েছে নারীরাও প্রতিবাদী হয়ে উঠতে পারে। অন্যায়কারী তো অন্যায়কারীই, সে পুরুষ হোক কিংবা নারী। এ বিষয়টি রঙমহালে এসেছে। এ ছাড়া নাটকের বিষয়বস্তু খুব সহজ। দর্শক সহজেই রিলেট করতে পারবে। আমিও এমন একটি নাটক করতে চেয়েছি, যেটা দর্শকের কাছে সহজবোধ্য হবে।

চার দশকের বেশি সময় ধরে মঞ্চের সঙ্গে জড়িত। শুরুটা কীভাবে হয়েছিল?

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৯-৮০ ব্যাচের শিক্ষার্থী আমি। ১৯৮০ সালে হুমায়ুন ফরীদি ভাই জাকসুর নাট্য সম্পাদক ছিলেন। তিনি একটি ওয়ার্কশপের আয়োজন করলেন। যেখানে ইন্টারভিউর মাধ্যমে নাট্যকর্মী নেওয়া হবে। তাঁদের নিয়ে এক মাসের প্রশিক্ষণ কর্মশালার ব্যবস্থা করা হবে। আমি সুযোগ পেলাম। কর্মশালাটি পরিচালনা করলেন নাট্যব্যক্তিত্ব সৈয়দ জামিল আহমেদ। সেই থেকে থিয়েটার চর্চা শুরু। সে সময় অভিনয়ের পাশাপাশি নির্দেশনাও দিয়েছি। আমি ছিলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হলের নাট্য সম্পাদক। দায়িত্বে থাকার সময় হলভিত্তিক প্রতিযোগিতায় মমতাজউদদীন আহমদের ‘বর্ণচোর’ নাটকটি নির্দেশনা দিই। সেটি সেরা নির্বাচিত হয়। এরপর আরও উৎসাহ পেলাম।

ঢাকা থিয়েটারে যুক্ত হলেন কীভাবে?

১৯৮১ সালে কাইজার আহমেদ নামের একজন, যিনি আমাদের সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়ার্কশপ করেছিলেন, তিনি ঢাকা থিয়েটারে যোগ দিলেন। উনি আমাকে বললেন, ‘চলো ঢাকা থিয়েটারের গ্রাম থিয়েটারের আদলে জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার করি।’ এরপর যাত্রা শুরু হলো জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের। ‘শকুন্তলা’ নাটকের প্রদর্শনী দিয়ে শুরু। পাশাপাশি গ্রাম থিয়েটারের হয়ে কাজ করতে শুরু করি। মাস্টার্স শেষ করার পর ১৯৮৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা থিয়েটারে যুক্ত হই। ঢাকা থিয়েটারের হয়ে আমার অভিনীত প্রথম নাটক ‘কেরামত মঙ্গল’।

মঞ্চে এখনো কি নিয়মিত অভিনয় করেন?

মঞ্চে অভিনয় করতে যে স্ট্রেন্থ বা জোর লাগে, সেটা এখন কমে গেছে। মঞ্চনাটক অনেক পরিশ্রমের কাজ। সবশেষ নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ‘প্রাচ্য’ নাটকে অভিনয় করেছিলাম। সেটাও প্রায় দেড় থেকে দুই বছর আগে। পুরোনো নাটক হলে থাকার চেষ্টা করি, কিন্তু নতুন নাটকে কতটুকু করতে পারব জানি না। দেখা যাক ভবিষ্যতে কী হয়।

বর্তমানে মঞ্চনাটকের সার্বিক পরিস্থিতি কেমন মনে হয়?

দর্শক আর আগের মতো মঞ্চনাটক দেখে না। এখন বিভিন্ন মাধ্যম আসার ফলে সবকিছু হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। বাসায় বসে মানুষ নাটক দেখছে, সিরিজ ও সিনেমা দেখতে পারছে। আগে নাটক দেখার জন্য হলে দর্শকের লম্বা লাইন দেখা যেত। এখন সেটা খুব কম চোখে পড়ে। এমন নয় যে ভালো নাটক হচ্ছে না। মঞ্চে অনেক নাট্যদল ভালো করছে। আমি দর্শকদের দোষও দিচ্ছি না। বিভিন্ন কারণে মানুষের মনমানসিকতার পরিবর্তন হয়েছে। সেটার প্রতিফলন হচ্ছে। এটাই হয়তো সময়ের নিয়তি।

আপনি তো একটি টিভি নাটকেরও নির্দেশনা দিয়েছেন। আর কোনো টিভি নাটকের নির্দেশনায় আপনাকে পাওয়া গেল না কেন?

আমি ‘ডিগবাজি’ নামের একটি নাটক নির্মাণ করেছিলাম। নানা কারণেই আর নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে নাটক লেখা হয়েছে ১০টির মতো—‘কালসাপের দর্শন’, ‘উচ্চবংশ পাত্র চাই’, ‘দুই বাসিন্দা’ ইত্যাদি। আগামী মাস থেকে আবার টিভি নাটকের নির্দেশনায় ফিরছি। তবে আমি মূলত অভিনেতা। শুধু নির্দেশনা নিয়ে ব্যস্ত থাকব, তা নয়। আমি হ‌ুমায়ূন আহমেদের স্টাইলে কাজ করতে পছন্দ করি। ভিউয়ের কথা না ভেবে গল্পনির্ভর নাটক বানাতে চাই।

এখনকার টিভি নাটক নিয়ে আপনার মতামত জানতে চাই।

ভালো-মন্দ দুটি মিলিয়ে নাটক হচ্ছে। আমাদের এখানে ভালো পরিচালক আছেন, অভিনয়শিল্পী আছেন, টেকনিশিয়ান আছেন। আমার কাছে যেটা সমস্যা মনে হয় সেটা হলো, ভালো গল্পের অভাব রয়েছে, ভালো চিত্রনাট্যের অভাব রয়েছে। আগে নাটকে গল্পটাই ছিল মূল। এখন গল্পটা পাওয়া যায় না। এর মাঝেও কিছু ভালো নাটক হচ্ছে। সেগুলো দর্শক ভালোভাবেই গ্রহণ করছে। তার মানে ভালো কিছু নির্মাণ করলে দর্শক দেখে। পরিচালক হিসেবে আমার চেষ্টা থাকবে এমন নাটক তৈরি করতে, যেটা বাসার সবাই মিলে দেখতে পারবে, গল্পের টুইস্ট দর্শকদের অবাক করবে।

আমি যা চেয়েছি তাই হতে পেরেছি: আ খ ম হাসান

মা হচ্ছেন অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ, জানালেন দ্বিতীয় বিয়ের খবর

প্রথমবার বিচারকের আসনে মোশাররফ করিম

শততম প্রদর্শনীতে থিয়েটারের ‘নিখাই’

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার উন্মাদনা নিয়ে আইস্ক্রিনে আসছে ‘ব্রাজেন্টিনা ক্লাব’

কেয়া পায়েলের প্রেমের গুঞ্জন

প্রেম করছেন নাজনীন নীহা

অভিনেত্রী ও পরিচালকের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

দীপ্ত প্লেতে আসছে নতুন মাইক্রোড্রামা

শুরু হচ্ছে বাংলাবিদ-এর নতুন সিজন