বাংলাদেশে থিয়েটার বিস্তারে এবং দক্ষ থিয়েটার কর্মী তৈরিতে দীর্ঘ ২৫ বছর কাজ করে চলেছে প্রাচ্যনাট স্কুল অব অ্যাকটিং অ্যান্ড ডিজাইন। এই স্কুলের ৬ মাসের পাঠ্যসূচিতে প্রশিক্ষণার্থীরা থিয়েটারের আনুষঙ্গিক বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পায়। এরই মধ্যে এই স্কুলের ৪৮টি ব্যাচ সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন করেছে। পরিসমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে ৪৯তম ব্যাচেরও।
আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রাচ্যনাট স্কুল অব অ্যাকটিং অ্যান্ড ডিজাইনের ৪৯তম ব্যাচের সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠান। ৪৯তম ব্যাচ তাদের সমাপনী প্রযোজনা হিসেবে উপস্থাপন করবে ‘গিনিপিগ’ নাটক। রচনা মামুনুর রশীদ, নির্দেশনা সাখাওয়াত হোসেন রেজভী। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন ডলি জহুর ও ইউসুফ হাসান অর্ক।
মামুনুর রশীদের গিনিপিগ নাটকটি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রচিত একটি ব্যঙ্গাত্মক বা স্যাটায়ারধর্মী নাটক। এতে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রযন্ত্র এবং ধনিকশ্রেণির হাতে গিনিপিগের মতো ব্যবহৃত হয়।
নাটকের প্রধান চরিত্র আহমেদ আলী একজন উচ্চপদস্থ আমলা। সে এমন এক সুবিধাবাদী শ্রেণির প্রতিনিধি, যারা পাকিস্তান আমলেও ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিল এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও নিজেদের আখের গুছিয়ে নিচ্ছে। তার স্ত্রী রাজিয়া রবীন্দ্রসংগীত চর্চা আর আভিজাত্য দেখানো নিয়ে ব্যস্ত, আর মেয়ে পপি আধুনিকতার হাওয়ায় গা ভাসানো তরুণী।
গল্পের মোড় ঘোরে একটি গিনিপিগ বা ইঁদুরজাতীয় প্রাণীকে কেন্দ্র করে। পপির শখের গিনিপিগটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পুরো বাড়িতে হুলুস্থুল পড়ে যায়। মেয়ের আবদার মেটাতে অস্থির হয়ে ওঠে আহমেদ আলী। অথচ ঠিক সে সময়ে সমাজে আরেক প্রান্তে কেরামতের ক্ষুধার্ত শিশুটি দুধের অভাবে কাঁদছে। পপির গিনিপিগের জন্য দামি ওষুধ আসে; কিন্তু কেরামতের সন্তানের জন্য একফোঁটা দুধ জোটে না। এই বৈপরীত্যের মধ্য দিয়ে নাট্যকার দেখান, সমাজের উঁচুতলার মানুষের কাছে তাদের পোষা প্রাণীর জীবনের মূল্য গরিব মানুষের সন্তানের জীবনের চেয়ে বেশি।
গিনিপিগ নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন গ্রেনার পল দীপ রোজারিও, সাহাদত হোসেন, সৈয়দা মাইশা জাহির, ইরিনা লা শাফিনা, অরুণিত ভোর, মারিয়া আক্তার মৃদুলা, সাদমান নাফিস কাদেরী, ফাতিমা তুজ জোহরা যুথি, আফরোজ মাইশা জাহান আলভি প্রমুখ।