সদ্য প্রয়াত অভিনেতা শামস সুমন স্মরণে ‘বন্ধু প্রিয় শামস সুমন স্মৃতিতে অম্লান’ শীর্ষক আলোচনা ও স্মৃতিচারণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে অভিনয়শিল্পী সংঘ। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান রূপ নেয় এক আবেগঘন মিলনমেলায়। শামস সুমনকে নিয়ে কথা বলার সময় অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।
এদিন সন্ধ্যায় শামস সুমনকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করেন মামুনুর রশীদ, খায়রুল আলম সবুজ, আমীরুল হক চৌধুরী, চিত্রলেখা গুহ, আজাদ আবুল কালাম, তৌকীর আহমেদ, আফসানা মিমি, আজিজুল হাকিম, আরমান পারভেজ মুরাদ, রওনক হাসান, আহসান হাবিব নাসিম, দীপা খন্দকার, শাহাদাত হোসেন প্রমুখ। তাঁদের কথায় উঠে আসে শামস সুমনের অভিনয়গুণ, সহকর্মীদের প্রতি আন্তরিকতা ও মানবিক দিক।
মামুনুর রশীদ বলেন, ‘নাটকসংশ্লিষ্ট এতগুলো সংগঠন গড়ে ওঠার মূলে সুমনের অনেক ভূমিকা। দিনের পর দিন আমাদের একসঙ্গে কাজ হয়েছে। অভিনয়ের চেয়ে গবেষণাধর্মী কাজে বেশি মনোযোগ ছিল সুমনের। রেডিও নিয়ে তার অনেক চিন্তা ছিল। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র নিয়ে ওর একটা থিসিস আছে। ওর সঙ্গে প্রায় প্রতিদিন আমার দেখা হতো।’
খায়রুল আলম সবুজ বলেন, ‘ওর সঙ্গে আমার খুব বেশি দেখা হতো না। কিন্তু যখনই দেখা হতো, অপূর্ব একটা সময় কাটত। শামস সুমন সব সময়ে রয়ে যাবে আমাদের মাঝখানে।’
তৌকীর আহমেদ বলেন, ‘শামস সুমনের যোগ্যতা অনেকের চেয়ে বেশি। তার উচ্চারণ, অভিনয় দক্ষতা, স্মার্টনেস—সবকিছু মিলিয়ে। শুটিং ইউনিটের প্রাণ ছিল সে। হাস্যরসে আনন্দে মাতিয়ে রাখত সবাইকে। সুমন কখনো শো-অফ করেনি। ও মনে করেছে ওর যতটুকু যোগ্যতা ও দক্ষতা, এটাই তাকে তার অবস্থানে নিয়ে যাবে।’
গত ১৭ মার্চ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান শামস সুমন। দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র—তিন মাধ্যমেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তাঁর এই হঠাৎ চলে যাওয়া দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া ফেলে। সেই শোককে স্মৃতিতে রূপ দিতেই সহকর্মীরা আয়োজন করেন এই বিশেষ অনুষ্ঠান।