হোম > বিনোদন > দক্ষিণের সিনেমা

‘মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রির মূল ক্ষমতা লেখকদের হাতে’

বিনোদন ডেস্ক

পৃথ্বীরাজ সুকুমারন। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

ভারতের অন্যান্য সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির তুলনায় মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রি ঠিক কোথায় আলাদা, তা স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন অভিনেতা ও নির্মাতা পৃথ্বীরাজ সুকুমারন। সম্প্রতি মুম্বাইয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, মালয়ালম সিনেমার সবচেয়ে বড় শক্তি ও বৈশিষ্ট্য হলো—এখানে কোনো তারকা কিংবা প্রযোজনা সংস্থা নয়, আসল ক্ষমতা থাকে লেখক বা চিত্রনাট্যকারের হাতে।

পৃথ্বীরাজ বলেন, ‘আজকের দিনেও মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রির যে দিকটি আমি সবচেয়ে ভালোবাসি তা হলো, এখানে লেখকদের হাতেই আসল ক্ষমতা থাকে। কোনো পরিচালক, প্রযোজনা সংস্থা কিংবা ম্যানেজার নন; লেখকেরাই সরাসরি অভিনেতার কাছে পৌঁছান।’

পুরো প্রক্রিয়ার বিশদ তুলে ধরে পৃথ্বীরাজ বলেন, ‘লেখকেরা সরাসরি অভিনেতার কাছে এসে গল্প শোনান। গল্প পছন্দ হলে অভিনেতা ও চিত্রনাট্যকার মিলে ঠিক করেন কোন পরিচালক এটি সবচেয়ে ভালো বানাতে পারবেন। এরপর তাঁরা একসঙ্গে পরিচালকের কাছে যান। পরিচালক রাজি হলে তিনজন মিলে ঠিক করেন কোন প্রযোজনা সংস্থা এতে অর্থায়ন করবে।’ অর্থাৎ সিনেমার পুরো যাত্রা শুরু হয় লেখককে দিয়ে; তারকা, স্টুডিও কিংবা অর্থের জোরে নয়।

লেখকদের প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি কাজের সহজ পরিবেশ ও জটিলতামুক্ত যোগাযোগের ক্ষেত্রেও মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রি আলাদা। অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রি যেখানে করপোরেট কাঠামোয় আবদ্ধ, সেখানে মালয়ালমে কোনো বাড়তি আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সহজে তারকাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে পৃথ্বীরাজ বলেন, ‘বলিউডে কোনো অভিনেতাকে চিত্রনাট্য শোনাতে হলে প্রথমে এজেন্সির সঙ্গে কথা বলতে হয়, এজেন্সি দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজারের কাছে পাঠায়, এরপর দীর্ঘ আনুষ্ঠানিকতার পর মিটিং ঠিক হয়। তারপর শুরু হয় পারিশ্রমিক নিয়ে দর-কষাকষি। অন্যদিকে, আমাদের কাজের ধরন অনেকটাই ইনফরমাল এবং আন্তরিক।’

মালয়ালম সিনেমা মানেই অল্প বাজেট ও দ্রুত শেষ করা, এমন ধারণাকে নাকচ করে পৃথ্বীরাজ জানান, ইন্ডাস্ট্রি এখন বদলে গেছে। তাঁরা এখন শতকোটি রুপি বাজেটের সিনেমাও বানাচ্ছেন, যেগুলোর শুটিং চলে ১৫০ দিন ধরে। তবে বড় ক্যানভাসে কাজ করলেও পারস্পরিক সহজ যোগাযোগ ও চিত্রনাট্যনির্ভর ধারাটাই মালয়ালম সিনেমাকে সবার চেয়ে আলাদা রেখেছে।