‘আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে, দেখতে আমি পাইনি তোমায়’—এই চিরচেনা সুরে যেন এক সন্ধ্যায় ফিরে এলেন কবিগুরু। গানের মূর্ছনা, নৃত্যের ছন্দ আর আবৃত্তির শব্দমাধুর্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টির জগতে ডুব দিলেন মানিকগঞ্জের দর্শকেরা। বিকেলের আলো ফুরিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন হয়ে উঠেছিল রবীন্দ্রসৃষ্টির আবেশে ভরা এক নান্দনিক মঞ্চ।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে গত রোববার বিকেলে মানিকগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। চলে রাত ৮টা পর্যন্ত। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে, জেলা শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গান, নৃত্য ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় কবিগুরুকে।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আলী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) খায়রুল ইসলাম এবং মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস।
অতিথিরা বলেন, রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণ দিবস শুধু একজন কবিকে স্মরণ করার দিন নয়, বাঙালির সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক নতুন করে অনুভব করারও দিন। শত বছর পেরিয়েও তাঁর গান, কবিতা ও দর্শন মানুষের হৃদয়ে একইভাবে অনুরণিত হয়।
জেলা কালচারাল অফিসার মোছা. মোখলেছা হিলালীর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনডিসি মো. আল জুনাঈদ, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা ফেরদৌসী আক্তার বন্যা, জাসাস জেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ওহিদুল ইসলাম বিশ্বাস লোটাস, সদস্যসচিব শামীম বিশ্বাসসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী বিউটি আচার্য্য, শিপ্রা দে, রতন সাহা ও সাইফুল ইসলাম। গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা। নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন মনিরুল ইসলাম সজল। রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃত্তি করেন মো. আবরার হাসিন শাদীদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জুঁইরিয়া ইসলাম নূপুর।