কোক স্টুডিও বাংলার চতুর্থ সিজনের ‘পাতার বাঁশরি’ গানের শুটিং হয়েছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক বড় সরদারবাড়িতে। গত মাসে গানটি প্রকাশের পর দারুণ প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু এই গানের শুটিংয়ের ফলে স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটি।
বড় সরদারবাড়ির ক্ষতি দাবি করে গতকাল শনিবার নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস। তিনি বলেন, ‘শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের প্রচেষ্টায় গড়ে তোলা বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন বা সোনারগাঁ লোকশিল্প জাদুঘরের বড় সরদারবাড়িটি সংস্কারের পর ২০১৮ সালে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। সম্প্রতি চার দিন ধরে কোক স্টুডিও বাংলা সিজন-৪-এর ভিডিও ধারণের কাজে ঐতিহাসিক ভবনটি ব্যবহার করা হয়েছে। এ সময় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটর, ভারী ক্যামেরা, সাউন্ড সিস্টেমসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহারের কারণে স্থাপনাটির দেয়াল, অলংকরণ ও নকশা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দ্বিতীয় আঙিনার একটি অংশ ভেঙে গেছে।’
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেন, ‘৩০০ বছরের প্রাচীন রাজধানীর এই স্থাপনাটি কোক স্টুডিওর মতো একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি বিস্ময়কর। সংশ্লিষ্ট পরিচালকেরা ঐতিহ্যের চেয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থকে বড় করে দেখছেন।’
সংগঠনের নেতারা প্রশ্ন তোলেন, প্রত্নসম্পদ হিসেবে স্বীকৃত এমন একটি স্পর্শকাতর স্থাপনায় শুটিংয়ের আগে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না। তাঁরা শুটিংয়ের অনুমতি ও আর্থিক লেনদেন-সংক্রান্ত নথি জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান। তাঁরা ঘটনার দ্রুত তদন্তের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সংস্কার করে সরদারবাড়িকে আগের নকশায় ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ভবিষ্যতে সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।