তৈরি হয়েছে কিংবদন্তি সংগীত তারকা মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক। অ্যান্টোইন ফুকুয়া পরিচালিত ‘মাইকেল’ নামের এ সিনেমায় মাইকেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন গায়কের ভাতিজা জাফর জ্যাকসন। মাইকেল জ্যাকসন কীভাবে হয়ে ওঠেন পপের রাজা, সেই কাহিনি উঠে এসেছে সিনেমায়। তাঁর মানবিক ও সৃষ্টিশীল দিকের পাশাপাশি মাইকেলের জ্যাকসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে যেসব বিতর্ক উঠেছিল, সেসবও থাকার কথা ছিল গল্পে। তবে শেষ পর্যন্ত গায়কের জীবনের বিতর্কিত অধ্যায় বাদ পড়তে চলেছে এ বায়োপিক থেকে।
‘মাইকেল’ সিনেমাটি মুক্তি পাবে ২৪ এপ্রিল। তার আগেই বড় বদলের কথা জানা গেল। সিনেমার মূল স্ক্রিপ্টে ১৯৯৩ সালে মাইকেলের বিরুদ্ধে ওঠা শিশু নির্যাতনের অভিযোগের দৃশ্যগুলো রাখা হয়েছিল। এটি দিয়েই সিনেমা শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে জ্যাকসন এস্টেটের আইনজীবীরা খুঁজে পান, ১৯৯৩ সালের সেই মামলার নিষ্পত্তির সময় জর্ডান চ্যান্ডলার নামের এক অভিযোগকারীর আইনি শর্ত ছিল, এ বিষয়টি কোনো সিনেমায় দেখানো যাবে না।
এই আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে নির্মাতারা ওই-সংক্রান্ত সব দৃশ্য বাদ দিতে বাধ্য হয়েছেন। ফলে বায়োপিকটি এখন আর সেই বিতর্কিত অধ্যায় দিয়ে শেষ হচ্ছে না। এর বদলে মাইকেল জ্যাকসনের আইকনিক ‘ব্যাড ট্যুর’ সংগীতসফরের মুহূর্ত এবং বাবার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অধ্যায় দিয়ে সিনেমাটি শেষ হবে।
এই বিশাল পরিবর্তনের জন্য সিনেমাটির বাজেট এক ধাক্কায় প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার বেড়ে গেছে। লস অ্যাঞ্জেলেসে আরও ২২ দিন অতিরিক্ত শুটিং করতে হয়েছে। যেহেতু এটি এস্টেটের আইনজীবীদের ভুল, তাই এই বাড়তি খরচের পুরোটা বহন করেছে জ্যাকসন এস্টেট।
এই পরিবর্তনের তীব্র সমালোচনা করেছেন মাইকেলের মেয়ে প্যারিস জ্যাকসন। তাঁর মতে, সত্য গোপন করে জ্যাকসন এস্টেট শুধু ভক্তদের তুষ্ট করার জন্য ইতিহাস বিকৃত করছে। মাইকেলের জীবনের বিতর্কিত অধ্যায়গুলো বাদ দেওয়ায় বায়োপিকটি শুধু একটি ‘মিউজিক্যাল সেলিব্রেশন’ হয়ে দাঁড়াবে কি না, এ প্রশ্ন তুলেছেন অনেক সমালোচক। তবে মাইকেলের গান এবং জাদুকরি পারফরম্যান্স বড় পর্দায় দেখার জন্য দর্শকেরা যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, তা এখন থেকেই বেশ বোঝা যাচ্ছে।