স্পাইডার-ম্যান হিসেবে টম হল্যান্ডের ১০ বছর পূর্ণ হয়েছে। মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়ার’ দিয়ে ২০১৬ সালে প্রথম পিটার পার্কার চরিত্রে দেখা দেন টম হল্যান্ড। ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ এবং ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এ স্পাইডার-ম্যান হিসেবে ছিল তাঁর উপস্থিতি। একক নায়ক হিসেবে করেছেন স্পাইডার-ম্যানের তিনটি সিনেমা—‘হোমকামিং’, ‘ফার ফ্রম হোম’ ও ‘নো ওয়ে হোম’। সবই তুমুল আলোচিত ও ব্যবসাসফল।
২০২১ সালে নো ওয়ে হোম মুক্তির পাঁচ বছর পর আবার ফিরছে পিটার পার্কার। এই চরিত্রে আবারও টম। স্পাইডার-ম্যান সিরিজের নতুন সিনেমা ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ মুক্তি পাবে আগামী ৩১ জুলাই। টম হল্যান্ড ইঙ্গিত দিলেন, স্পাইডার-ম্যান হিসেবে তাঁর জার্নি হয়তো দ্রুতই শেষ হবে। পরবর্তী স্পাইডার-ম্যান সিনেমায় অভিনেতা হিসেবে না থাকতে পারলেও পরামর্শক থাকতে চান তিনি।
সংবাদমাধ্যম এম্পায়ারকে টম হল্যান্ড বলেন, ‘যদি আমার জায়গায় নতুন কোনো স্পাইডার-ম্যানের আগমন ঘটে, তবে মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সে রবার্ট ডাউনি জুনিয়র আমার জন্য যা করেছিলেন, তা করতে পারলে পরম তৃপ্তিতে এই চরিত্র থেকে অবসর নিতে পারব।’ উল্লেখ্য, মার্ভেল সিনেমায় পিটার পার্কার হিসেবে টম হল্যান্ডের অভিষেকের সময় রবার্ট ডাউনি জুনিয়র তাঁকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। হল্যান্ডও এখন নতুন কারও জন্য সেই একই দায়িত্ব পালন করতে চান।
পিটার পার্কার বা স্পাইডার-ম্যান চরিত্রে অভিনয় করে এই ১০ বছরে চরিত্রটি সম্পর্কে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা হয়েছে টম হল্যান্ডের। বুঝতে পেরেছেন, চরিত্রটি কীভাবে কী করে। তাই অভিনয় ছাড়াও মুক্তি প্রতীক্ষিত ব্র্যান্ড নিউ ডে সিনেমার সৃজনশীল কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ পেয়েছেন টম হল্যান্ড।
টম হল্যান্ড জানান, স্পাইডার-ম্যান হিসেবে নিজের ক্যারিয়ারে এই প্রথম রাইটার্স রুমে আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। চিত্রনাট্যকারেরা প্রতি দুই সপ্তাহে একবার প্রযোজকদের সঙ্গে মিটিং করতেন। সেখানে নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে আলোচনা হতো। ব্র্যান্ড নিউ ডে সিনেমার গল্পের জন্য তিনিও একটি আইডিয়া জমা দিয়েছিলেন। তাঁর মূল ভাবনা ছিল, কী ঘটবে যদি পিটার পার্কার নিজের ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করে এবং তার শরীরে অদ্ভুত সব পরিবর্তন আসতে থাকে?
মার্ভেল স্টুডিও অবশ্য টম হল্যান্ডের দেওয়া নামটি পছন্দ করেনি। হল্যান্ডের মতে, ‘আমরা এর আগে পিটারকে হাইস্কুলের গণ্ডিতে দেখেছি। এবার সে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ। এবার সে সম্পূর্ণ একা, তার কোনো বন্ধু নেই, কোনো আস্থার জায়গা নেই।’ তিনি জানান, এবার পিটারের ক্ষমতাগুলো খুব অদ্ভুত এবং অপ্রত্যাশিতভাবে বদলাতে শুরু করবে। এই আইডিয়াকে স্টুডিওর কাছে তিনি ‘স্পাইডার-পিউবার্টি’ বা স্পাইডার-বয়ঃসন্ধি হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। যদিও স্টুডিও নামটি বাতিল করে দেয়, তবে ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর এই মূল ভাবনা তাদের পছন্দ হয়। তা থেকে তৈরি হয়েছে ব্র্যান্ড নিউ ডে সিনেমার মূল প্লট।