মাদ্রাসায় পড়ার সময় চলচ্চিত্র নির্মাতা হতে চেয়েছিলেন রায়হান রাফী। কিন্তু মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হওয়ায় সেই আশা পূরণ হবে না বলে শঙ্কা জেগেছিল মনে। সে সময় একদিন পত্রিকায় দেখেন তারেক মাসুদের সিনেমা ‘মাটির ময়না’ কান উৎসবে যাচ্ছে। রাফী জানতে পারেন, তারেক মাসুদও মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন। এই বিষয়টা তাঁকে আকর্ষিত করে।
একদিন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তারেক মাসুদের সঙ্গে দেখা করেন রাফী। ছোট্ট রাফীর উৎসাহ দেখে অনুপ্রাণিত করেন তারেক মাসুদ। বয়সে ছোট হওয়ায় সহকারী পরিচালক হতে না পারলেও সুযোগ পেলেই তাঁর শুটিং দেখতে ছুটে যেতেন রাফী। তারেক মাসুদের সঙ্গে কাজ না করলেও তাঁকে গুরু মানেন তিনি। তাই এবার নিজের প্রযোজিত প্রথম সিনেমা ‘প্রেশার কুকার’ তারেক মাসুদকে উৎসর্গ করলেন রাফী। আসছে রোজার ঈদে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে সিনেমাটি।
গত চার বছর সিনেমা মুক্তি দেওয়ার জন্য কোরবানির ঈদকে বেছে নিলেও এবার রোজার ঈদে প্রেশার কুকার মুক্তি দিচ্ছেন রাফী। সিনেমার গল্প নির্বাচনেও রেখেছেন চমক। নারীকেন্দ্রিক গল্পে নির্মিত এই সিনেমার প্রধান চার চরিত্রে অভিনয় করছেন শবনম বুবলী, নাজিফা তুষি, মারিয়া শান্ত ও স্নিগ্ধ চৌধুরী। প্রথম দুই পোস্টারে চার নায়িকার উপস্থিতি থাকলেও তৃতীয় পোস্টারেও চমক দিয়েছেন নির্মাতা। নতুন পোস্টারে দেখা গেল পাঞ্জাবি-টুপি পরা এক কিশোর সরিষাখেতে দাঁড়িয়ে আছে, একটু দূরে বোরকা পরিহিতা একদল নারী। নতুন এই পোস্টারে তারেক মাসুদের মাটির ময়না সিনেমার পোস্টারের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখেছেন নির্মাতা।
তারেক মাসুদকে সিনেমা উৎসর্গ করার বিষয়টি জানিয়ে গত শুক্রবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় রাফী লেখেন, ‘কোন মাটির ময়না গাইবে আমার মুক্তির গান? আ ট্রিবিউট টু তারেক মাসুদ। প্রেশার কুকার আসছে ঈদুল ফিতরে, আপনার কাছের সিনেমা হলে।’
তারেক মাসুদকে উৎসর্গ করা প্রসঙ্গে রায়হান রাফী বলেন, ‘প্রেশার কুকার দিয়ে প্রযোজক হিসেবে আমার যাত্রা শুরু হচ্ছে। তারেক মাসুদকে দেখে সিনেমা বানাতে অনুপ্রাণিত হয়েছি। তাই মনে হয়েছে আমার প্রথম প্রযোজিত সিনেমাটি তাঁকে উৎসর্গ করা যায়।’
চার নারীর জীবনের ভিন্ন ভিন্ন গল্প নিয়ে সাজানো হয়েছে প্রেশার কুকারের কাহিনি। রাফী বলেন, ‘প্রেশার কুকারের কাজ হলো দ্রুত রান্না করা। আর ঢাকা শহরে মানুষ আসে অল্প সময়ে বড়লোক হতে, জনপ্রিয় হতে। সব ক্ষেত্রে সবাই দ্রুত সাফল্য চায়। প্রেশার কুকারে যখন দ্রুত রান্না করবেন তখন একটা ঝুঁকি থেকে যায়। অনেক সময় ফেটে যায়। ঢাকা শহরটাকে আমরা প্রেশার কুকার বুঝিয়েছি। যেখানে কয়েকজন নারী সব সময় সেদ্ধ হচ্ছে। একসময় তারা মুক্তি চায়। একসময় তাদের গুল্পগুলো একসঙ্গে মিশে যায়। এই সিনেমাটি তাদের মুক্তির গান গাইবে।’