ইরান সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই করে যাওয়া বিশ্ববিখ্যাত ইরানি চলচ্চিত্র পরিচালক জাফর পানাহি আবারও আইনি জটিলতার মুখোমুখি। তেহরানের একটি বিপ্লবী আদালত তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে বিচারপ্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। পানাহির বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ—রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো।
হলিউড রিপোর্টার ও ইরানি বার্তা সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, জাফর পানাহির বিরুদ্ধে মূলত ‘রাষ্ট্রবিরোধী প্রচার’ এবং ‘অননুমোদিত চলচ্চিত্র নির্মাণ ও তা আন্তর্জাতিক উৎসবে পাঠানোর’ পুরোনো অভিযোগকে নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুনানির জন্য ২০ মে আদালতে তলব করা হয়েছে পানাহিকে।
জাফর পানাহির বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপের খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্ব চলচ্চিত্র অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কান চলচ্চিত্র উৎসব কর্তৃপক্ষ, বার্লিনেল, ইউরোপীয় ফিল্ম একাডেমি, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ইরান সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, ভিন্নমতাবলম্বী এবং স্বাধীনচেতা শিল্পীদের কণ্ঠরোধের জন্যই ইরান সরকার বিচারব্যবস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
ইরান সরকার কয়েক দশক ধরে জাফর পানাহির বিরুদ্ধে সিনেমা নির্মাণ এবং দেশত্যাগের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে। একাধিকবার গ্রেপ্তারও করা হয়েছে তাঁকে। সবশেষ ২০২২ সালের জুলাই মাসে গ্রেপ্তার হন পানাহি। প্রায় ৭ মাস বন্দী থাকার পর, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে কারাগারে আমরণ অনশন শুরু করলে তাঁকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।
জেল থেকে বেরিয়ে গোপনে ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাকসিডেন্ট’ সিনেমার শুটিং করেন পানাহি। সিনেমাটি ৭৮তম কান উৎসবে সেরা সিনেমার পুরস্কার জয় করে। মনোনয়ন পায় অস্কার, গোল্ডেন গ্লোবসহ একাধিক আসরে।
সিনেমাটির আন্তর্জাতিক মুক্তির প্রচারণার কাজে অংশ নিতে এবং অস্কারে যোগ দিতে গত বছরের শেষ দিক থেকে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন জাফর পানাহি। তাঁর অনুপস্থিতিতে গত ডিসেম্বরে তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ড ও দুই বছরের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন ইরানের বিপ্লবী আদালত। কারাদণ্ডের ঝুঁকি উপেক্ষা করে গত ৩১ মার্চ ইরানে ফিরে যান জাফর পানাহি।