এ সপ্তাহের সিনেমা
অ্যানিমেশনপ্রেমীদের কাছে ‘মোয়ানা’ খুবই জনপ্রিয় নাম। মোয়ানার সেই জাদুকরি দুনিয়া এবার জীবন্ত হয়ে বড় পর্দায় ফিরছে। ২০১৬ সালের কালজয়ী অ্যানিমেটেড গল্পটিকে বাস্তবের ফ্রেমে নিয়ে এসেছেন পরিচালক টমাস কেল। আজ ১০ জুলাই বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাচ্ছে ‘মোয়ানা’র বহুল প্রতীক্ষিত লাইভ অ্যাকশন সংস্করণ। একই দিন থেকে সিনেমাটি দেখা যাবে বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সে।
সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এক দ্বীপের সাহসী তরুণী মোয়ানাকে ঘিরে। দ্বীপের চেনা পরিবেশ ছেড়ে সে এক রোমাঞ্চকর সমুদ্রযাত্রায় পাড়ি জমায়। তার মূল উদ্দেশ্য নিজের সম্প্রদায়ের মানুষদের বড় বিপদ থেকে বাঁচানো এবং দ্বীপে সুখ-সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনা। এই বিপজ্জনক অভিযানে তার সঙ্গী হয় শক্তিশালী ডেমিগড মাউই। যাত্রাপথে বিভিন্ন অদ্ভুত প্রাণী ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় তারা। মূল অ্যানিমেশন সিনেমার রোমাঞ্চকে অক্ষুণ্ন রেখেই এই লাইভ অ্যাকশন সংস্করণের চিত্রনাট্য সাজানো হয়েছে।
২০১৬ সালের মোয়ানা অ্যানিমেশন ছোট-বড় সবার মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলেছিল এবং বক্স অফিসে আয় করেছিল প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার। আট বছর পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে ডিজনি নিয়ে আসে এর সিকুয়েল ‘মোয়ানা ২’। এটিও বক্স অফিসে ঝড় তুলে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে। আগের এই দুটি সিনেমায় মোয়ানা চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েছিলেন আউলিই ক্রাভালিও এবং মাউই চরিত্রে ডোয়াইন জনসন।
মোয়ানার অ্যানিমেশন ভার্সনের দুটি সিনেমায় কণ্ঠ দেওয়ার পর, এবার লাইভ অ্যাকশনে এই আইকনিক চরিত্রে সশরীর অভিনয় করেছেন ডোয়াইন জনসন। অন্যদিকে অ্যানিমেশনের দুই পর্বে প্রধান চরিত্রে আউলিই ক্রাভালিও কণ্ঠ দিলেও ক্যামেরার সামনে তিনি এবার অভিনয় করতে চাননি। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে।
আর রুপালি পর্দায় মোয়ানা চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে জন্ম নেওয়া ক্যাথরিন লাগাইয়াকে। এর আগে তাঁকে প্রাইম ভিডিওর ‘দ্য লস্ট ফ্লাওয়ারস অব অ্যালিস হার্ট’ সিরিজের তিনটি পর্বে দেখা গিয়েছিল। তবে বড় পর্দায় প্রধান চরিত্রে ১৯ বছর বয়সী এই উদীয়মান অভিনেত্রীর এটাই প্রথম অভিষেক।
ভ্যারাইটিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক রিভিউ অনুযায়ী, মূল অ্যানিমেশনের চিরচেনা আবেগ আর নস্টালজিয়াকে এই রিমেকেও চমৎকারভাবে ধরে রাখা হয়েছে। আইকনিক গানগুলো নতুন ফ্রেমেও দর্শকদের দারুণ আনন্দ দেবে। তবে সমুদ্রের জাদুকরি রূপ পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে সিনেমায় প্রচুর সিজিআই ও গ্রিন স্ক্রিন ব্যবহার করা হয়েছে। কিছু সমালোচকের মতে, অতিরিক্ত স্পেশাল ইফেক্টসের কারণে প্রকৃতির স্বাভাবিক সৌন্দর্য কোথাও কোথাও কিছুটা মার খেয়েছে। তবে সার্বিকভাবে এর চমৎকার সাউন্ড ডিজাইন এবং চোখধাঁধানো ভিজ্যুয়াল দর্শকদের অসাধারণ অভিজ্ঞতা উপহার দেবে।