সালমান খানের পর এবার বলিউডের আরেক খান আমির খানকে হুমকির অভিযোগ উঠেছে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি তৃতীয়বারের মতো বিয়ে করেছেন এই বলিউড অভিনেতা। আর এই বিয়েকে কেন্দ্র করেই হুমকির ঘটনা ঘটেছে।
লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ভাই আরজু বিষ্ণোই এবং টাইসন বিষ্ণোই নামে পরিচিত অন্য এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে এই হুমকি দিয়েছেন বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টে অভিযোগ করা হয়েছে, আমির খান দেশে ‘লাভ জিহাদ’ প্রচার করছেন এবং তারা এটি মেনে নেবে না। তবে এনডিটিভি এই পোস্টের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
পোস্টে বলা হয়েছে, ‘আরজু বিষ্ণোই এবং টাইসন বিষ্ণোই (লরেন্স বিষ্ণোই গ্রুপ) বলছি, আমির খানের মতো ব্যক্তিরা আমাদের দেশে তথাকথিত “লাভ জিহাদ” প্রচার করছেন, যা আমাদের সংস্কৃতির পরিপন্থী। আমরা এসব মেনে নেব না। খুব শিগগিরই তাঁকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তাঁর এই কাজ সনাতন ধর্ম ও দেশবিরোধী।’
পোস্টে আরও বলা হয়, ‘আমরা আমাদের ভাই, বোন ও দেশের নাগরিকদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, যারা এ ধরনের ন্যক্কারজনক কাজকে উৎসাহিত করবে, আমরা আমাদের মতো করে দেখে নেব। যারা তারকাখ্যাতির নামে এসবে উৎসাহ দিচ্ছে, তাদেরও চুপ করিয়ে দেওয়া হবে।’
সূত্র অনুযায়ী, পুলিশ ফেসবুক ও একটি ভয়েস নোটের মাধ্যমে এই হুমকির খবর পেয়েছে, যা তারা যাচাই করে দেখছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মুম্বাই পুলিশ এখনো আমির খান বা তাঁর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পায়নি। তারা আরও জানায়, আমির খানের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে এ বিষয়ে একটি মামলা করা হতে পারে।
গত কয়েক বছর ধরে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কাছ থেকে একের পর এক হুমকি পেয়ে আসছেন বলিউড অভিনেতা সালমান খান। গ্যাংটির দাবি, ১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বরে হাম সাথ সাথ হ্যায় চলচ্চিত্রের শুটিং চলাকালে যোধপুরের কাছে মাথানিয়ার বাওয়াদ এলাকায় কৃষ্ণসার হরিণ (ব্ল্যাকবাক) শিকারে সালমান খানের জড়িত থাকার অভিযোগে তারা তাঁকে হত্যা করতে চায়। বিষ্ণোই সম্প্রদায় কৃষ্ণসার হরিণকে পবিত্র প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করে। ওই ঘটনার জেরে সম্প্রদায়টির সদস্যরা ক্ষুব্ধ হন।
২০১৮ সালে আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে লরেন্স বিষ্ণোই বলেছিলেন, ‘আমরা যোধপুরে সালমান খানকে হত্যা করব। আমরা যখন ব্যবস্থা নেব, তখন সবাই দেখতে পাবে। এখন পর্যন্ত কিছুই করিনি। অথচ কোনো কারণ ছাড়াই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনছে।’
২০২৪ সালের এপ্রিলে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সালমান খানের বাড়ির বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনার দায়ও লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং স্বীকার করেছিল।
এ ছাড়া ২০২৩ সালের অক্টোবরে বান্দ্রায় মহারাষ্ট্রের সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকীকে হত্যার দায় স্বীকার করার সময়ও গ্যাংটি সালমান খানের নাম উল্লেখ করে। সে সময় গ্যাংয়ের এক সদস্য দাবি করেন, বাবা সিদ্দিকী সালমান খানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি হুমকি দেন, যাঁরা সালমান খানকে সহযোগিতা করবেন, তাঁরাও তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হবেন।
২০২২ সালে সংগীতশিল্পী সিধু মুসেওয়ালাকে হত্যার দায় স্বীকার করার পর দেশজুড়ে আলোচনায় আসে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং।