বাবা দিলীপ বিশ্বাসের দেখানো পথেই চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে ক্যারিয়ার গড়েছেন দেবাশীষ বিশ্বাস। তবে শোবিজে দেবাশীষের শুরু উপস্থাপনা দিয়ে। তাঁর উপস্থাপনায় একুশে টিভির স্ট্রিট শো ‘পথের প্যাঁচালী’ একসময় এতই জনপ্রিয়তা পেয়েছিল যে অনুষ্ঠানটির কথা এখনো মনে রেখেছেন দর্শকেরা। অনুষ্ঠানটি কি আর ফিরবে? প্রায়ই এমন প্রশ্ন শুনতে হয় তাঁকে। অবশেষে দেবাশীষ বিশ্বাস জানালেন, তাঁর উপস্থাপনায় আবার ফিরছে পথের প্যাঁচালী। রোজার ঈদের পর একুশে টেলিভিশনে শুরু হবে নতুন সিজন।
পথের প্যাঁচালী নতুন করে শুরু হওয়ার খবরে উচ্ছ্বসিত দেবাশীষ বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘একুশে টেলিভিশন এবং পথের প্যাঁচালী অনুষ্ঠানই আমাকে দেবাশীষ বিশ্বাস বানিয়েছে, এই কথার মধ্যে কোনো ভুল নেই। বাংলাদেশের মানুষ ২৬ বছর ধরে একটানা আমাকে চিনে যাচ্ছে, ভালোবেসে যাচ্ছে এটার প্রথম এবং প্রধান কারণ পথের প্যাঁচালী। এই অনুষ্ঠান নিয়ে আবার আসব, এটা ভাবতেই নিজের মধ্যে অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করছে। ভীষণ অপেক্ষায় আছি।’
পথের প্যাঁচালীর ফেরার পরিকল্পনা কীভাবে হলো, জানতে চাইলে দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, ‘সম্প্রতি একুশে টেলিভিশন আমাকে ডেকেছিল। সেখানে একাধিক অনুষ্ঠান নিয়ে কথা হয়েছে। এর মধ্যে পথের প্যাঁচালীও আছে। পথের প্যাঁচালীকে নতুনভাবে নিয়ে আসা যায় কি না, এ নিয়ে আমাদের অনেক আলাপ হয়েছে। সেখান থেকেই শুরু। ঈদের পর একুশে টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, সে সময় থেকে পথের প্যাঁচালীর নতুন সিজন শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।’
দেবাশীষ আরও বলেন, ‘গত ২০ বছর মানুষ আমাকে বলছে এই অনুষ্ঠানটা আবার নিয়ে আসেন। আমার কাছেও মনে হয়েছে এই বিনোদনটা দেওয়া আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে গেছে। প্রতিটি মুহূর্তে দর্শক আমাকে পথের প্যাঁচালী ফিরবে কি না, সেটা জানতে চেয়েছেন। এবার তাঁদের সেই উত্তরটা দিতে চাই।’
পথের প্যাঁচালী অনুষ্ঠানের কোনো নির্দিষ্ট স্টুডিও ছিল না। পুরো অনুষ্ঠানের শুটিং হতো আউটডোরে। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে পথচলতি মানুষকে মজার মজার প্রশ্ন করতেন দেবাশীষ বিশ্বাস। তবে সময়ের পরিবর্তনের কারণে অনুষ্ঠানের ফরমেটে আসতে পারে পরিবর্তন। এ নিয়ে দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, ‘তখনকার সময় আর এখনকার সময় তো এক নয়। পরিস্থিতিও ভিন্ন। আমার বয়সটাও কিন্তু আগের মতো নয়। তারপরেও নতুন আঙ্গিকে অবশ্যই আনা যায়। যেটা হয়তো আগের মতো দর্শক পছন্দও করবেন।’